ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পেট ভরে খেয়েও কেন আবার ক্ষুধা? জানুন ৪ কারণ Logo বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার Logo সৌরজগতের বাইরে বহির্গ্রহ থেকে রেডিও সংকেত শনাক্ত Logo মাত্র ৭ দিনে মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে, জানুন সহজ কৌশল Logo দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এমপি জসীমের নেতৃত্বে চন্দনাইশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

পেট ভরে খেয়েও কেন আবার ক্ষুধা? জানুন ৪ কারণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

পেট ভরে খাওয়ার পরও দ্রুত ক্ষুধা লাগলে খাবারের পুষ্টির ভারসাম্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

পেট ভরে খাওয়ার পরও দুই ঘণ্টার মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগা সবসময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। অনেক সময় দুপুরের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে। খাবারের পর দীর্ঘ সময় তৃপ্ত থাকতে প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঠিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু খাবারের পরিমাণ নয়, খাবারের পুষ্টিগুণের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

দুপুরে ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ বা মাংস খাওয়ার পরও অনেকের বিস্কুট, চানাচুর, মিষ্টি কিংবা অন্য কোনো নাশতা খেতে ইচ্ছা করে। এ সময় অনেকেই ভাবেন, এত দ্রুত আবার ক্ষুধা লাগছে কেন। তবে এটি সবসময় বেশি খাওয়ার অভ্যাসের কারণে হয় না। খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলেও এমনটা হতে পারে।

ভারতের বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান ডা. সন্ধ্যা সিং এসের মতে, দুপুরের খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবারসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ভারসাম্য থাকা জরুরি। শুধু পেট ভরলেই খাবার দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেবে, এমন নয়। দুপুরের খাবারের পর দ্রুত ক্ষুধা লাগার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।

এর মধ্যে প্রথমটি হলো খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকা। প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির পরিমাণ বেশি হলেও মাছ, মাংস, ডিম বা ডালের মতো প্রোটিনের উৎস কম থাকলে দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে। তাই খাবারে উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন রাখা জরুরি।

দ্বিতীয় কারণ হতে পারে ফাইবারের ঘাটতি। সবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও ফলে থাকা ফাইবার খাবারের পরিমাণ বা ‘বাল্ক’ বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় থাকতে পারে এবং খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার খাবারের ইচ্ছা কমতে পারে।

তৃতীয় কারণ হলো শুধু কার্বোহাইড্রেটনির্ভর খাবার খাওয়া। অনেকের দুপুরের খাবারে ভাত, পোলাও, খিচুড়ি কিংবা রুটিই থাকে প্রধান অংশ। কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগালেও খাবারে প্রোটিন ও ফাইবার কম থাকলে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি নাও থাকতে পারে। তাই শুধু খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর বদলে উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।

চতুর্থ কারণ হিসেবে ফলের জুস ও অতিরিক্ত তরল খাবারের বিষয়টি উঠে আসে। এক গ্লাস ফলের জুস স্বাস্থ্যকর মনে হলেও পুরো ফলের তুলনায় এতে ফাইবার কম থাকতে পারে। তরল খাবারে চিবানোর প্রয়োজনও কম হয়, যা তৃপ্তির অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত জুসের পরিবর্তে সম্ভব হলে পুরো ফল খাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

দুপুরের খাবারের পর বারবার ক্ষুধা লাগলে খাবারের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগে প্লেটের দিকে নজর দেওয়া ভালো। সেখানে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে কি না, তা দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং বারবার খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাও জরুরি। অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস ক্ষুধার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই দুপুরের খাবারের মাত্র দুই ঘণ্টা পর আবার খেতে ইচ্ছা হলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য আছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে অস্বাভাবিক বা দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত ক্ষুধার সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেট ভরে খেয়েও কেন আবার ক্ষুধা? জানুন ৪ কারণ

পেট ভরে খেয়েও কেন আবার ক্ষুধা? জানুন ৪ কারণ

Update Time : ১১:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেট ভরে খাওয়ার পরও দুই ঘণ্টার মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগা সবসময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। অনেক সময় দুপুরের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে। খাবারের পর দীর্ঘ সময় তৃপ্ত থাকতে প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঠিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু খাবারের পরিমাণ নয়, খাবারের পুষ্টিগুণের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

দুপুরে ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ বা মাংস খাওয়ার পরও অনেকের বিস্কুট, চানাচুর, মিষ্টি কিংবা অন্য কোনো নাশতা খেতে ইচ্ছা করে। এ সময় অনেকেই ভাবেন, এত দ্রুত আবার ক্ষুধা লাগছে কেন। তবে এটি সবসময় বেশি খাওয়ার অভ্যাসের কারণে হয় না। খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলেও এমনটা হতে পারে।

ভারতের বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান ডা. সন্ধ্যা সিং এসের মতে, দুপুরের খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবারসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ভারসাম্য থাকা জরুরি। শুধু পেট ভরলেই খাবার দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেবে, এমন নয়। দুপুরের খাবারের পর দ্রুত ক্ষুধা লাগার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।

এর মধ্যে প্রথমটি হলো খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকা। প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির পরিমাণ বেশি হলেও মাছ, মাংস, ডিম বা ডালের মতো প্রোটিনের উৎস কম থাকলে দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে। তাই খাবারে উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন রাখা জরুরি।

দ্বিতীয় কারণ হতে পারে ফাইবারের ঘাটতি। সবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও ফলে থাকা ফাইবার খাবারের পরিমাণ বা ‘বাল্ক’ বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় থাকতে পারে এবং খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার খাবারের ইচ্ছা কমতে পারে।

তৃতীয় কারণ হলো শুধু কার্বোহাইড্রেটনির্ভর খাবার খাওয়া। অনেকের দুপুরের খাবারে ভাত, পোলাও, খিচুড়ি কিংবা রুটিই থাকে প্রধান অংশ। কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগালেও খাবারে প্রোটিন ও ফাইবার কম থাকলে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি নাও থাকতে পারে। তাই শুধু খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর বদলে উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।

চতুর্থ কারণ হিসেবে ফলের জুস ও অতিরিক্ত তরল খাবারের বিষয়টি উঠে আসে। এক গ্লাস ফলের জুস স্বাস্থ্যকর মনে হলেও পুরো ফলের তুলনায় এতে ফাইবার কম থাকতে পারে। তরল খাবারে চিবানোর প্রয়োজনও কম হয়, যা তৃপ্তির অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত জুসের পরিবর্তে সম্ভব হলে পুরো ফল খাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

দুপুরের খাবারের পর বারবার ক্ষুধা লাগলে খাবারের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগে প্লেটের দিকে নজর দেওয়া ভালো। সেখানে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে কি না, তা দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং বারবার খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাও জরুরি। অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস ক্ষুধার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই দুপুরের খাবারের মাত্র দুই ঘণ্টা পর আবার খেতে ইচ্ছা হলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য আছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে অস্বাভাবিক বা দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত ক্ষুধার সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।