ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত সারজিস-পাটওয়ারী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫২০

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার পর ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি | ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই জাগরণ কর্মসূচি শেষে শহরের একটি এলাকায় সার্কিট হাউসে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ এনসিপির নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও হামলায় এনসিপির নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

দিনের শুরুতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে জুলাই জাগরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম বক্তব্য দেন। পরে হবিগঞ্জ শহরেও দলটির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় গাড়িবহরকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা
হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত | ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় শুধু দলটির নেতাকর্মীরাই নয়, তাদের মিডিয়া টিমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের একটি মিডিয়া টিমের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও তাদের কাছে এসেছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কারা সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট কী—তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

হামলার পর এনসিপির নেতারা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করার অভিযোগ তোলেন। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, হামলার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাদের বক্তব্য উসকানিমূলক ছিল এবং তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় জনতা জড়ো হয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত বা চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনার আগে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। সারজিস আলমও রাজনৈতিক সহিংসতা ও অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের পর বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময়ই হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে সংঘাতের ঘটনায় রূপ নেয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে। হামলায় আহত সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যদের চিকিৎসা ও পরবর্তী অবস্থার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা হামলায় জড়িত এবং হামলার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ঘটনাটির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আইনগত পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত সারজিস-পাটওয়ারী

Update Time : ১১:০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই জাগরণ কর্মসূচি শেষে শহরের একটি এলাকায় সার্কিট হাউসে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ এনসিপির নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও হামলায় এনসিপির নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

দিনের শুরুতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে জুলাই জাগরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম বক্তব্য দেন। পরে হবিগঞ্জ শহরেও দলটির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় গাড়িবহরকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা
হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত | ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় শুধু দলটির নেতাকর্মীরাই নয়, তাদের মিডিয়া টিমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের একটি মিডিয়া টিমের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও তাদের কাছে এসেছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কারা সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট কী—তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

হামলার পর এনসিপির নেতারা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করার অভিযোগ তোলেন। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, হামলার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাদের বক্তব্য উসকানিমূলক ছিল এবং তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় জনতা জড়ো হয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত বা চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন  সবুজায়ন কর্মসূচি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান

ঘটনার আগে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। সারজিস আলমও রাজনৈতিক সহিংসতা ও অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের পর বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময়ই হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে সংঘাতের ঘটনায় রূপ নেয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন  ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড: কসবায় ৫ দোকানকে জরিমানা

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে। হামলায় আহত সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যদের চিকিৎসা ও পরবর্তী অবস্থার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা হামলায় জড়িত এবং হামলার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ঘটনাটির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আইনগত পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।