জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক তাদের ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে প্ল্যাটফর্মটিতে নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি রিপোর্টে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই সময়ে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ১২৯টি ভিডিও সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯.৯ শতাংশ কনটেন্ট আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং ৯৮.৪ শতাংশ ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে, যা টিকটকের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্দেশ করে।
টিকটক জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কনটেন্ট মডারেশন সিস্টেম আরও উন্নত হওয়ায় অনেক ভিডিও প্রকাশের আগেই শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা যাচ্ছে। শুধু নতুন কনটেন্ট নয়, পুরনো আপত্তিকর ভিডিও খুঁজে বের করতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বব্যাপী একই সময়ে টিকটক ১৭ কোটি ৫৩ লাখের বেশি ভিডিও অপসারণ করেছে, যা মোট আপলোডকৃত কনটেন্টের প্রায় ০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৫ কোটিরও বেশি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মটির অটোমেশন ব্যবস্থার শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে।
এছাড়া ভুয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে টিকটক। এই সময়ে ১৪ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং ১৩ বছরের নিচে সন্দেহভাজন ২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ভুয়া লাইক ও ফলোয়ারও অপসারণ করা হয়েছে।
সরানো কনটেন্টের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২১.২ শতাংশ ছিল সংবেদনশীল বা প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু। এছাড়া ৯.১ শতাংশ নিরাপত্তা নীতিমালা ভঙ্গ, ১.২ শতাংশ গোপনীয়তা লঙ্ঘন, ১.৬ শতাংশ ভুল তথ্য এবং ১.৮ শতাংশ এআই-জেনারেটেড বা সম্পাদিত কনটেন্ট ছিল।
টিকটক জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মের স্বচ্ছতা ও ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এই ধরনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী ও নীতিনির্ধারকেরা প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।




























