চট্টগ্রামের খাবারের কথা উঠলেই মেজবানি মাংস, কালা ভুনা ও চনার ডালের পাশাপাশি নলা ঝোল-এর নামও চলে আসে। গরুর হাড় ও মজ্জা দিয়ে তৈরি এই ঝোল মেজবানি খাবারের পরিচিত একটি পদ। ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের তালিকায় নলার ঝোল বা নলার কানজির উল্লেখ পাওয়া যায়।
নলা ঝোল-এর মূল আকর্ষণ এর ঝোলের গভীর স্বাদ। গরুর হাড়, মজ্জা ও চর্বি দীর্ঘ সময় রান্না হলে সেগুলোর স্বাদ ঝোলে মিশে যায়। এর সঙ্গে মরিচ ও বিভিন্ন মসলার ব্যবহার ঝোলকে করে তোলে ঝাল ও সুগন্ধি। মেজবানি খাবারের অন্যান্য পদের তুলনায় এটি কিছুটা পাতলা ঝোল হলেও স্বাদে বেশ সমৃদ্ধ।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান মূলত বড় পরিসরের অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন। মেজবানি খাবারে সাদা ভাতের সঙ্গে গরুর মাংস, চনার ডাল ও নলা ঝোল পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁতেও মেজবানি সেটে নলা ঝোল পাওয়া যায়।
এই পদ রান্নার ক্ষেত্রে প্রথমে গরুর হাড় ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এরপর পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনা মরিচসহ প্রয়োজনীয় মসলা দিয়ে হাড় কষানো হয়। পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করলে হাড় ও মজ্জার স্বাদ ঝোলে ভালোভাবে মিশে যায়। তবে ঘর ও বাবুর্চির পদ্ধতি অনুযায়ী রান্নার উপকরণ ও মসলার পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
নলা ঝোলের সঙ্গে চট্টগ্রামের মেজবানি সংস্কৃতির সম্পর্ক বেশ পুরোনো। একসময় সামাজিক ও পারিবারিক বড় আয়োজনে এই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হতো। মেজবানের খাবারে গরুর বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করার ঐতিহ্যও ছিল। ফলে হাড়, মজ্জা ও চর্বি দিয়ে তৈরি পদগুলো খাবারের বৈচিত্র্য বাড়াত।
আজকের দিনে মেজবান শুধু সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নিয়মিত মেজবানি খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। কোথাও নলা ঝোল আলাদা পদ হিসেবে, আবার কোথাও মেজবানি সেটের অংশ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। ফলে চট্টগ্রামের বাইরের মানুষও ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন।
গরম সাদা ভাতের সঙ্গে নলা ঝোল খাওয়ার প্রচলন চট্টগ্রামের খাবার সংস্কৃতির একটি পরিচিত দিক। ঝোলের মসলা, মজ্জার সমৃদ্ধ স্বাদ এবং গরম ভাতের মিলন তৈরি করে আলাদা এক খাবারের অভিজ্ঞতা। অনেকের কাছে মেজবানি খাবারের স্বাদ পূর্ণ হয় নলা ঝোল ছাড়া।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে আমাদের অন্যান্য প্রতিবেদনেও জানতে পারেন মেজবানি চনার ডাল, কালা ভুনা ও মেজবানি গরুর মাংস সম্পর্কে। এতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য আরও সহজে জানা যাবে।
সব মিলিয়ে নলা ঝোল শুধু গরুর হাড়ের একটি সাধারণ ঝোল নয়। এটি চট্টগ্রামের মেজবানি খাবারের ঐতিহ্য, রান্নার নিজস্ব ধরন এবং অতিথি আপ্যায়নের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পরিচিত খাবার। সময়ের সঙ্গে খাবারের পরিবেশনে পরিবর্তন এলেও চট্টগ্রামের খাবারের তালিকায় নলা ঝোল এখনও নিজের স্বতন্ত্র জায়গা ধরে রেখেছে।



























