ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার তেহরানে দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী সৈয়দ আলী মাদানিসাদে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমাতি এবং কয়েকজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। তবে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় শুরু থেকেই দেশটি শক্ত অবস্থান নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অবস্থান ধরে রাখা হবে বলে জানান তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অর্থনৈতিক খাতের প্রস্তুতি ও সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করে প্রত্যাশিত সুবিধা নিতে পারবে না। তার দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময়ও ইরানের সামরিক বাহিনী ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। তিনি এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
পরবর্তীতে ১৮ জুন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

























