ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের যে হুমকি দিয়েছিল উয়েফা, সেখান থেকে আপাতত সরে আসার পথে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা আর এগোবে না—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই অবস্থান বদলাচ্ছে উয়েফা।
বৃহস্পতিবার মোনাকোয় উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এতে আগামী মাসে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও কাটতে পারে।
বিতর্কের শুরু মাসখানেক আগে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব বিক্রির একটি পরিকল্পনা সামনে আনেন। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’ নামে প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। উয়েফাও এর বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান নেয়।
উয়েফা তখন জানায়, প্রস্তাবটি পুরোপুরি বাতিল না করা হলে ইউরোপের দেশগুলো ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করতে পারে। পরে চাপের মুখে ইনফান্তিনো জানান, প্রস্তাবটি আর আলোচনায় নেই এবং এতে কিছু ভুলও ছিল। তবে শুধু প্রস্তাব প্রত্যাহার নয়, ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তাও চেয়েছিল উয়েফা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার সেই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই বয়কটের পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে উয়েফা। এর ফলে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ নিয়ে স্বস্তি ফিরতে পারে। টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন ও স্বাগতিক পোল্যান্ডসহ ছয়টি ইউরোপীয় দল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
উয়েফার ভেতরের একটি সূত্র অবশ্য বিষয়টিকে পিছু হটা হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ নষ্ট না করাই মূল বিষয়। তবে ফিফার নেতৃত্ব ও কাঠামোতে সংস্কারের দাবি থেকে উয়েফা সরে আসছে না।
এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন এরই মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইনফান্তিনোকে পদ ছাড়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে।
ইনফান্তিনোর সমালোচকদের পাশাপাশি তাঁর সমর্থকরাও প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। সাবেক খেলোয়াড়দের কেউ কেউ তাঁর নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও কাফু, ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি, পেপে ও এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোর মতো সাবেক তারকারা ফিফা সভাপতির পক্ষে কথা বলেছেন। ফলে ফিফা-উয়েফার এই বিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।




























