ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবর আজম: লর্ডস টেস্টের আগে পাকিস্তানের বড় স্বস্তি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

লর্ডস টেস্টের আগে অনুশীলনে বাবর আজম। ছবি: সংগৃহীত

বাবর আজমকে ঘিরেই এখন পাকিস্তানের আশার আলো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর লর্ডস টেস্টের আগে পাকিস্তান পেয়েছে স্বস্তির খবর। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে না থাকা দলের টেস্ট অধিনায়ক দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরতে পারেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, আঙুলের চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং দেখে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টও আশাবাদী।

বাবর আজমের চোটের শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। জুলাই-আগস্টের সেই সিরিজে আঙুলে আঘাত পাওয়ার পর পুনর্বাসনের মধ্যেই ছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডে পৌঁছে বেকেনহ্যামে পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচেও একই আঙুলে আবার আঘাত পান। ফলে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে তাঁকে ছাড়াই একাদশ সাজাতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। সেই সিদ্ধান্তের পর মাঠের পারফরম্যান্স অবশ্য দলকে খুব একটা স্বস্তি দিতে পারেনি। প্রথম টেস্টে ব্যাটিংয়ে দুই ইনিংসেই বড় ধস নামে।

লর্ডস টেস্টের আগে তাই বাবর আজমের ব্যাট হাতে ফেরাটা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলের বোলিং কোচ উমর গুল জানিয়েছেন, বাবর নেটে পেসার, স্পিনার এবং থ্রোডাউনের বিপক্ষে ব্যাটিং করেছেন। শুধু কয়েকটি বল খেলে থেমে যাননি; পুরো একটি ব্যাটিং সেশন করেছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে সন্তুষ্ট গুলও আশা করছেন, ম্যাচে খেলার মতো অবস্থায় চলে আসবেন তিনি। যদিও কোচ সরাসরি একাদশে তাঁর থাকা নিশ্চিত করেননি, তবে অনুশীলনের ধরন পাকিস্তানকে যথেষ্ট আশাবাদী করে তুলেছে।

হেডিংলিতে পাকিস্তানের ব্যাটিং যে কতটা নড়বড়ে ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বোলাররা পাকিস্তানের ২০টি উইকেট নিতে সময় নিয়েছেন ৮৬ ওভারেরও কম। টেস্ট ক্রিকেটে এর চেয়ে কম ওভারে দুই ইনিংসে অলআউট হওয়ার ঘটনা পাকিস্তানের জন্য খুবই বিরল। এমন পরিস্থিতিতে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদের একজনকে ফিরে পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সুবিধা। ক্রিকেটের সর্বশেষ তথ্য দেখতে আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাবরের প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যাটিং শক্তি বাড়ানোর বিষয় নয়, দলের নেতৃত্বেও প্রভাব ফেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে তাঁকে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে নামলে এই সফরেই প্রথমবার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পরই প্রথমবার টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন বাবর। তাঁর ফেরার সঙ্গে পাকিস্তানের একাদশেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম টেস্টে খেলা আজান আওয়াইসকে জায়গা ছাড়তে হতে পারে।

ইংল্যান্ডের মাটিতে বাবরের পরিসংখ্যানও পাকিস্তানকে আশাবাদী করছে। এই কন্ডিশনে তাঁর ছয় ইনিংসে তিনটি ফিফটি রয়েছে এবং ব্যাটিং গড় ৬৫.৭৫। শুধু ইংল্যান্ডের মাটিতে নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তাঁর রেকর্ড যথেষ্ট শক্তিশালী। দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে ১৪ ইনিংসে বাবরের গড় ৫৩.৮৩। এর মধ্যে সাত ইনিংসে তিনি পঞ্চাশ বা তার বেশি রান করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক—দুই ফিফটিতে করেছিলেন ১৯৩ রান, আর আউট হয়েছিলেন মাত্র দুবার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল তথ্য থেকেও দল ও খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক আপডেট পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে লর্ডস টেস্টের আগে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফেরানোর মতো খবরই এসেছে। প্রথম টেস্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাটিংয়ে বড় পরিবর্তন দরকার। সেখানে বাবরের উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। তবে শুধু একজন ব্যাটসম্যান ফিরলেই সমস্যার সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের অন্য ব্যাটসম্যানদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আর অধিনায়ক হিসেবে বাবরের সামনে থাকবে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ—হেডিংলির হতাশা ভুলে লর্ডসে পাকিস্তানকে সিরিজে ফেরানো।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবর আজম: লর্ডস টেস্টের আগে পাকিস্তানের বড় স্বস্তি

Update Time : ০৯:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বাবর আজমকে ঘিরেই এখন পাকিস্তানের আশার আলো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর লর্ডস টেস্টের আগে পাকিস্তান পেয়েছে স্বস্তির খবর। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে না থাকা দলের টেস্ট অধিনায়ক দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরতে পারেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, আঙুলের চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং দেখে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টও আশাবাদী।

বাবর আজমের চোটের শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। জুলাই-আগস্টের সেই সিরিজে আঙুলে আঘাত পাওয়ার পর পুনর্বাসনের মধ্যেই ছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডে পৌঁছে বেকেনহ্যামে পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচেও একই আঙুলে আবার আঘাত পান। ফলে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে তাঁকে ছাড়াই একাদশ সাজাতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। সেই সিদ্ধান্তের পর মাঠের পারফরম্যান্স অবশ্য দলকে খুব একটা স্বস্তি দিতে পারেনি। প্রথম টেস্টে ব্যাটিংয়ে দুই ইনিংসেই বড় ধস নামে।

লর্ডস টেস্টের আগে তাই বাবর আজমের ব্যাট হাতে ফেরাটা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলের বোলিং কোচ উমর গুল জানিয়েছেন, বাবর নেটে পেসার, স্পিনার এবং থ্রোডাউনের বিপক্ষে ব্যাটিং করেছেন। শুধু কয়েকটি বল খেলে থেমে যাননি; পুরো একটি ব্যাটিং সেশন করেছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে সন্তুষ্ট গুলও আশা করছেন, ম্যাচে খেলার মতো অবস্থায় চলে আসবেন তিনি। যদিও কোচ সরাসরি একাদশে তাঁর থাকা নিশ্চিত করেননি, তবে অনুশীলনের ধরন পাকিস্তানকে যথেষ্ট আশাবাদী করে তুলেছে।

আরও পড়ুন  খেপ খেলা নিয়ে বাফুফের কঠোর অবস্থান, তদন্ত হবে অভিযোগে

হেডিংলিতে পাকিস্তানের ব্যাটিং যে কতটা নড়বড়ে ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বোলাররা পাকিস্তানের ২০টি উইকেট নিতে সময় নিয়েছেন ৮৬ ওভারেরও কম। টেস্ট ক্রিকেটে এর চেয়ে কম ওভারে দুই ইনিংসে অলআউট হওয়ার ঘটনা পাকিস্তানের জন্য খুবই বিরল। এমন পরিস্থিতিতে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদের একজনকে ফিরে পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সুবিধা। ক্রিকেটের সর্বশেষ তথ্য দেখতে আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না: বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্বে যুক্তরাষ্ট্র

বাবরের প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যাটিং শক্তি বাড়ানোর বিষয় নয়, দলের নেতৃত্বেও প্রভাব ফেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে তাঁকে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে নামলে এই সফরেই প্রথমবার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পরই প্রথমবার টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন বাবর। তাঁর ফেরার সঙ্গে পাকিস্তানের একাদশেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম টেস্টে খেলা আজান আওয়াইসকে জায়গা ছাড়তে হতে পারে।

ইংল্যান্ডের মাটিতে বাবরের পরিসংখ্যানও পাকিস্তানকে আশাবাদী করছে। এই কন্ডিশনে তাঁর ছয় ইনিংসে তিনটি ফিফটি রয়েছে এবং ব্যাটিং গড় ৬৫.৭৫। শুধু ইংল্যান্ডের মাটিতে নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তাঁর রেকর্ড যথেষ্ট শক্তিশালী। দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে ১৪ ইনিংসে বাবরের গড় ৫৩.৮৩। এর মধ্যে সাত ইনিংসে তিনি পঞ্চাশ বা তার বেশি রান করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক—দুই ফিফটিতে করেছিলেন ১৯৩ রান, আর আউট হয়েছিলেন মাত্র দুবার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল তথ্য থেকেও দল ও খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক আপডেট পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন  ওলি রবিনসন-জশ টাংয়ের দারুণ স্মারক, কাটলেন ম্যাচের বল

সব মিলিয়ে লর্ডস টেস্টের আগে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফেরানোর মতো খবরই এসেছে। প্রথম টেস্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাটিংয়ে বড় পরিবর্তন দরকার। সেখানে বাবরের উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। তবে শুধু একজন ব্যাটসম্যান ফিরলেই সমস্যার সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের অন্য ব্যাটসম্যানদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আর অধিনায়ক হিসেবে বাবরের সামনে থাকবে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ—হেডিংলির হতাশা ভুলে লর্ডসে পাকিস্তানকে সিরিজে ফেরানো।