ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

J-10CE যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ? সরকারের নতুন অগ্রগতি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

চীনের তৈরি J-10CE যুদ্ধবিমান । ছবি: সংগৃহীত

J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আরও এক ধাপ এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি এই মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কেনার প্রক্রিয়ায় খসড়া চুক্তিপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। উপদেষ্টা বলেন, J-10CE এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে গঠিত কমিটি নেগোসিয়েশন বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। এরপর সেটি অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চীনের এই যুদ্ধবিমান নিয়ে সরকারের আগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে এর যুদ্ধ সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই সংঘাতে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় চীনের J-10 যুদ্ধবিমানের ভূমিকা ছিল। তবে এ ধরনের সামরিক সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে J-10 সিরিজের সক্ষমতা বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, রাফালকে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বিপরীতে চীনের তৈরি মাল্টি-রোল ফাইটার বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে শুধু সক্ষমতা নয়, ব্যয়ের বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। জাহেদ উর রহমান বলেন, রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানের তুলনায় একই ধরনের সক্ষমতার চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলকভাবে কম। ফলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক বিবেচনাতেও চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।

J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখন প্রশাসনিক ও চুক্তিগত প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত, কতটি বিমান কেনা হবে, মোট ব্যয়, সরবরাহের সময়সূচি এবং প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার মতো বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলে পুরো চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। সরকারও জানিয়েছে, দেশের জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

J-10CE যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ? সরকারের নতুন অগ্রগতি

Update Time : ০৯:০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আরও এক ধাপ এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি এই মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কেনার প্রক্রিয়ায় খসড়া চুক্তিপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। উপদেষ্টা বলেন, J-10CE এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে গঠিত কমিটি নেগোসিয়েশন বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। এরপর সেটি অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

চীনের এই যুদ্ধবিমান নিয়ে সরকারের আগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে এর যুদ্ধ সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই সংঘাতে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় চীনের J-10 যুদ্ধবিমানের ভূমিকা ছিল। তবে এ ধরনের সামরিক সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে J-10 সিরিজের সক্ষমতা বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, রাফালকে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বিপরীতে চীনের তৈরি মাল্টি-রোল ফাইটার বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬: কাল থেকে শুরু হচ্ছে দেশের ১৮ জেলায়

এদিকে শুধু সক্ষমতা নয়, ব্যয়ের বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। জাহেদ উর রহমান বলেন, রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানের তুলনায় একই ধরনের সক্ষমতার চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলকভাবে কম। ফলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক বিবেচনাতেও চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।

J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখন প্রশাসনিক ও চুক্তিগত প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন  নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত, কতটি বিমান কেনা হবে, মোট ব্যয়, সরবরাহের সময়সূচি এবং প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার মতো বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলে পুরো চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। সরকারও জানিয়েছে, দেশের জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।