ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজী আফাজ উদ্দীনের ইন্তেকাল

হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম হাজী আফাজ উদ্দীন।

হাজী আফাজ উদ্দীন আর নেই। হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম উদ্যোক্তা হাজী আফাজ উদ্দীন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে মাদরাসা পরিবার, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত থাকা এই প্রবীণের চলে যাওয়া এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী আফাজ উদ্দীন শুধু একজন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন না, তিনি এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কাছেই তিনি ছিলেন অভিভাবকতুল্য একজন ব্যক্তিত্ব।

মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবক প্রতিনিধি মির্জা স্যার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, হাজী আফাজ উদ্দীন আজীবন এলাকায় দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তাঁর চিন্তা ও উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা। স্থানীয় পর্যায়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে তাঁর যে ভূমিকা ছিল, সেটি মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

একজন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, অনেক সময় একটি বৃহৎ সামাজিক পরিসরের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। হাজী আফাজ উদ্দীন-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। শিক্ষা বিস্তার, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করছেন অনেকে। মাদরাসা পরিবার মনে করছে, তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

হাজী আফাজ উদ্দীন-এর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। মাদরাসা পরিবারের পক্ষ থেকেও মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর আত্মার মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়েছে। হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা সংশ্লিষ্টদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা হাজী আফাজ উদ্দীন-এর সকল নেক আমল কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল বন্যা: ভয়াবহ বিপর্যয়ে ১৬২ মৃত্যু, নিখোঁজ শত শত

হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজী আফাজ উদ্দীনের ইন্তেকাল

Update Time : ০১:২৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

হাজী আফাজ উদ্দীন আর নেই। হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম উদ্যোক্তা হাজী আফাজ উদ্দীন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে মাদরাসা পরিবার, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত থাকা এই প্রবীণের চলে যাওয়া এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী আফাজ উদ্দীন শুধু একজন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন না, তিনি এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কাছেই তিনি ছিলেন অভিভাবকতুল্য একজন ব্যক্তিত্ব।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু আক্রান্ত: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি

মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবক প্রতিনিধি মির্জা স্যার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, হাজী আফাজ উদ্দীন আজীবন এলাকায় দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তাঁর চিন্তা ও উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা। স্থানীয় পর্যায়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে তাঁর যে ভূমিকা ছিল, সেটি মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন  স্বস্তিদায়ক বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

একজন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, অনেক সময় একটি বৃহৎ সামাজিক পরিসরের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। হাজী আফাজ উদ্দীন-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। শিক্ষা বিস্তার, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করছেন অনেকে। মাদরাসা পরিবার মনে করছে, তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম পরিচ্ছন্নতা অভিযান: মেয়রের বড় বার্তা নাগরিকদের

হাজী আফাজ উদ্দীন-এর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। মাদরাসা পরিবারের পক্ষ থেকেও মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর আত্মার মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়েছে। হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা সংশ্লিষ্টদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা হাজী আফাজ উদ্দীন-এর সকল নেক আমল কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।