ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জব্বারের বলীখেলায় বাঘা শরীফের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন! রানারআপ রাশেদ Logo মে দিবসে নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশ: তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন Logo তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান কারাগারে Logo ঘামের দুর্গন্ধে নাজেহাল? এই ৫টি ঘরোয়া উপায়েই সারাদিন থাকবেন একদম ফ্রেশ! Logo ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, দুই অঞ্চলে সতর্কসংকেত Logo যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ যেসব দেশের জন্য ভিসা স্থগিত করল Logo পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টি: সুস্থ জীবনের ভারসাম্য Logo ইয়ামি গৌতম ইসলাম শিক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি ‘হক’ ছবির জন্য Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু ২৮ এপ্রিল, আগস্টে গ্রিডে বিদ্যুৎ Logo মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫: তারকাখচিত আয়োজন

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান কারাগারে

  • Masura Akter
  • Update Time : ০৬:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান আদালতে হাজির। | ছবি: সূত্র

তনু হত্যা মামলা নিয়ে নতুন অগ্রগতি, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে মিলছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে আদালতে নেওয়ার দৃশ্য
তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান আদালতে হাজির। | ছবি: সূত্র

তনু হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায়। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকায় নতুন এই অগ্রগতি জনমনে আবারও আশার সঞ্চার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  সীমান্তে গুলির শব্দ থামলেও থামেনি আতঙ্ক—৪ দিন পর মিলল বাংলাদেশির নিথর দেহ

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, যিনি ২০২৩ সালে অবসর নেন। ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড চলাকালে তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পাশাপাশি তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলে মামলার অগ্রগতিতে আরও স্পষ্টতা আসবে।

আরও পড়ুন  নেত্রকোণায় এমপির গাড়িতে হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায়

তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুইজনের নাম উঠে এসেছে,সার্জেন্ট জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। তবে এই দুইজনের পরিচয় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। মামলার বাদী ও তনুর বাবা দাবি করেছেন, সৈনিক শাহীন নামে কেউ নেই, বরং জাহিদ নামটিই শুরু থেকেই উঠে এসেছে। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের অনুসন্ধানে শাহীন ও জাহিদ আলাদা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এই বিভ্রান্তি নিরসনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের ডিএনএ নমুনাও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে তদন্তকারী সংস্থা কাজ করছে।

আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু হত্যা: ৬ বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি নির্জন স্থানে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার প্রতীক হয়ে রয়েছে। তনু হত্যা মামলা এখনও বিচারাধীন এবং প্রতিটি নতুন তথ্য জনগণের আগ্রহ ও প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ এই মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জব্বারের বলীখেলায় বাঘা শরীফের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন! রানারআপ রাশেদ

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান কারাগারে

Update Time : ০৬:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

তনু হত্যা মামলা নিয়ে নতুন অগ্রগতি, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে মিলছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে আদালতে নেওয়ার দৃশ্য
তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান আদালতে হাজির। | ছবি: সূত্র

তনু হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায়। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকায় নতুন এই অগ্রগতি জনমনে আবারও আশার সঞ্চার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু হত্যা: ৬ বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, যিনি ২০২৩ সালে অবসর নেন। ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড চলাকালে তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পাশাপাশি তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলে মামলার অগ্রগতিতে আরও স্পষ্টতা আসবে।

আরও পড়ুন  খালি গায়ে কৃষকের ছদ্মবেশে ডাকাত ধরলেন পুলিশ কর্মকর্তা!

তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুইজনের নাম উঠে এসেছে,সার্জেন্ট জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। তবে এই দুইজনের পরিচয় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। মামলার বাদী ও তনুর বাবা দাবি করেছেন, সৈনিক শাহীন নামে কেউ নেই, বরং জাহিদ নামটিই শুরু থেকেই উঠে এসেছে। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের অনুসন্ধানে শাহীন ও জাহিদ আলাদা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এই বিভ্রান্তি নিরসনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের ডিএনএ নমুনাও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে তদন্তকারী সংস্থা কাজ করছে।

আরও পড়ুন  ওসমান হাদি হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন অস্ত্র সরবরাহকারী

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি নির্জন স্থানে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার প্রতীক হয়ে রয়েছে। তনু হত্যা মামলা এখনও বিচারাধীন এবং প্রতিটি নতুন তথ্য জনগণের আগ্রহ ও প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ এই মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।