মহড়ার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের নানা দিক ঘুরে দেখেন। বিশেষভাবে তিনি অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি, দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা এবং বিশেষ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় সেনা কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু প্রচলিত অস্ত্র নয়, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ড্রোন শনাক্তকরণ, ইলেকট্রনিক নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার হামলা, ড্রোন আক্রমণ, তথ্যযুদ্ধ (Information Warfare) এবং হাইব্রিড যুদ্ধ নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিবেশে পরিচালিত এ ধরনের মহড়া সেনাসদস্যদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলগত সমন্বয় এবং প্রতিকূল পরিবেশে অভিযানের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মহড়া শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সব সময় সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং দেশপ্রেমকে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের এই সময়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তি আয়ত্ত করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতের যেকোনো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে দক্ষ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সরকার গত কয়েক বছরে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক অস্ত্র, নজরদারি প্রযুক্তি, সাঁজোয়া যান এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং যৌথ মহড়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সামরিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের বাস্তবমুখী মহড়া আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনেও সেনাসদস্যদের দক্ষতা আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের দুর্গম জঙ্গল এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ মহড়া শুধু একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, আধুনিক সামরিক সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ মোকাবিলার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন। একই সঙ্গে এটি দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির বার্তাও বহন করে।
মহড়া শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে, সেটিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।


























