জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারির আগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের কথোপকথনটিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ফোনালাপটির লিখিত রূপ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের সময় এটি উপস্থাপন করা হয়।
কথোপকথনে আনিসুল হক রাতেই কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটি প্রস্তাবের কথা বলেন। পাশাপাশি আরও কঠোর পদক্ষেপের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন তিনি। জবাবে সালমান এফ রহমান প্রথম প্রস্তাবটিকে কার্যকর বলে মত দেন বলে ফোনালাপের লিখিত সংস্করণে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই শুনানিতে ওবায়দুল কাদের ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের আরেকটি ফোনালাপও উপস্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ২১ জুলাইয়ের ওই কথোপকথনে কারফিউ চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি, অর্থের প্রয়োজন এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর বিষয় উঠে আসে।
ফোনালাপে মির্জা আজম দলীয় কর্মীদের জন্য অর্থ ও জ্বালানি সংকটের কথা জানান। ওবায়দুল কাদেরও অর্থের বিষয়ে সালমান এফ রহমানের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় অর্থ না দেওয়ার অভিযোগও কথোপকথনে উঠে আসে।
ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।

























