রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার অবসানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববারের ওই বৈঠকে দুই সংগঠনের নেতারা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি অতীতের ঘটনা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে মূলত সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে মতবিরোধ দেখা দিলে সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের ওপর জোর দেন অংশগ্রহণকারীরা।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতায় ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। তাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন উপকমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা আলোচনায় অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস এস এম ফরহাদ এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় দুই সংগঠনের পক্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। কোনো পক্ষের কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
বৈঠকের শেষ দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের একটি দৃশ্যও দেখা যায়। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুল আলিমের সঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতাকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। তাদের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এমন সমঝোতা বৈঠককে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই পক্ষের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর বিষয়ে একমত হওয়ায় ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন এই সমঝোতার সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।



























