হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে আবারও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরান। দেশটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মানছে না। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর কাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু প্রথম পদক্ষেপ। অভিযোগ করা আগ্রাসন চলতে থাকলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ফলে নৌযান চলাচল বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। এর আগে একটি সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখা দিয়েছিল। এমনকি কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও ওই পথ দিয়ে চলাচল শুরু করেছিল।
কিন্তু ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকার বিষয়টি তারা চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। এ কারণেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য শিগগির সুইজারল্যান্ডে যেতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, উভয় পক্ষের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা টিকে থাকবে। তবে হরমুজ প্রণালি বাস্তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্যও এসেছে।
ইরানও জানিয়েছে, তাদের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় অংশ নেবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তী সমঝোতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতিতেও চাপ পড়তে পারে। কারণ এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ইরানের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য আলোচনা—সবকিছু মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলোচনার মাধ্যমে সংকট কমে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

























