ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদি পারমাণবিক চুক্তি: ট্রাম্পের বড় সিদ্ধান্ত কেন বদলে গেল?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০২

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি পারমাণবিক চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহু বছর আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছালেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, এই চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এতে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি ঘোষণার পর ধারণা করা হচ্ছিল, দীর্ঘদিনের আলোচনার অবসান ঘটল। দুই দেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং এটিকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে পরদিন ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য পুরো চিত্র পাল্টে দেয়। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা জরুরি। তাই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্ত ছাড়া এই চুক্তি কার্যকর হবে না।

হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যেও দেখা গেছে ভিন্নতা। প্রশাসনের একটি অংশের দাবি, চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই এটি ঘোষণা করা হয়েছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, পুরো প্রক্রিয়াতেই হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় ছিল। এই ভিন্ন অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

চুক্তি নিয়ে মার্কিন রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনাও পরিস্থিতি বদলে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ফক্স নিউজ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রশ্ন তোলে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই কেন সৌদি আরবকে এত বড় সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, বাইডেন প্রশাসনও একই ধরনের শর্ত দিয়েছিল। এই সমালোচনার পরই ট্রাম্প প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান আরও কঠোর করেন।

এদিকে পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের উদ্বেগ, সৌদি আরব যদি ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র অংশীদার হলে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব বজায় থাকবে। অন্যথায় চীন বা রাশিয়ার মতো দেশ সেই সুযোগ নিতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু জ্বালানি সহযোগিতা নয়, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পকে অন্তত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের শর্ত যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস এ দাবি অস্বীকার করেছে। প্রেস সচিবের ভাষ্য, এটি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তবে সময়ের ব্যবধান ও ঘটনাপ্রবাহ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত আগের শর্তেই বাস্তবায়ন হবে, নাকি নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার অপেক্ষায় আরও দীর্ঘ সময় আটকে থাকবে। কারণ কংগ্রেসের অনুমোদন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা—সব বিষয় এখন এক সুতোয় গাঁথা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনীতিতে এই চুক্তির পরিণতি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শোভিতার রান্না: মজার পোস্টে চমক দিলেন নাগা চৈতন্য

সৌদি পারমাণবিক চুক্তি: ট্রাম্পের বড় সিদ্ধান্ত কেন বদলে গেল?

Update Time : ০১:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সৌদি পারমাণবিক চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহু বছর আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছালেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, এই চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এতে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি ঘোষণার পর ধারণা করা হচ্ছিল, দীর্ঘদিনের আলোচনার অবসান ঘটল। দুই দেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং এটিকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে পরদিন ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য পুরো চিত্র পাল্টে দেয়। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা জরুরি। তাই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্ত ছাড়া এই চুক্তি কার্যকর হবে না।

আরও পড়ুন  ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যেও দেখা গেছে ভিন্নতা। প্রশাসনের একটি অংশের দাবি, চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই এটি ঘোষণা করা হয়েছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, পুরো প্রক্রিয়াতেই হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় ছিল। এই ভিন্ন অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

চুক্তি নিয়ে মার্কিন রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনাও পরিস্থিতি বদলে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ফক্স নিউজ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রশ্ন তোলে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই কেন সৌদি আরবকে এত বড় সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, বাইডেন প্রশাসনও একই ধরনের শর্ত দিয়েছিল। এই সমালোচনার পরই ট্রাম্প প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান আরও কঠোর করেন।

আরও পড়ুন  তেলের বাজার উন্মুক্ত না করলে খেসারত নিশ্চিত: ইরানের হুঁশিয়ারি

এদিকে পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের উদ্বেগ, সৌদি আরব যদি ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র অংশীদার হলে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব বজায় থাকবে। অন্যথায় চীন বা রাশিয়ার মতো দেশ সেই সুযোগ নিতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু জ্বালানি সহযোগিতা নয়, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন  নাসার দুর্দান্ত ছবিতে রাতের পৃথিবীর আলোর ক্যানভাস

ইসরায়েলের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পকে অন্তত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের শর্ত যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস এ দাবি অস্বীকার করেছে। প্রেস সচিবের ভাষ্য, এটি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তবে সময়ের ব্যবধান ও ঘটনাপ্রবাহ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত আগের শর্তেই বাস্তবায়ন হবে, নাকি নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার অপেক্ষায় আরও দীর্ঘ সময় আটকে থাকবে। কারণ কংগ্রেসের অনুমোদন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা—সব বিষয় এখন এক সুতোয় গাঁথা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনীতিতে এই চুক্তির পরিণতি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।