ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় বজ্রপাতে মৃত্যু: ৩ প্রাণহানির বিস্তারিত তথ্য

বজ্রপাতে নিহতদের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণায় বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটনায় শোক নেমে এসেছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার মদন ও কেন্দুয়া উপজেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই খোলা স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

মদন উপজেলার জয়পাশা গ্রামে বৃষ্টির সময় বাড়ির সামনের এলাকায় মাছ ধরতে যান রাজিব মিয়া (২৪)। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাজিব স্থানীয় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

অন্যদিকে কেন্দুয়া উপজেলার মোড়াইল বিল এলাকায় সকালে মাছ ধরতে যান শামসুল হুদা (৫৫)। তিনি স্থানীয় দিগলী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবহাওয়া খারাপ থাকলেও তিনি বিলের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে কেউ তাকে রক্ষা করতে পারেননি।

একই উপজেলার সান্ধিকোণা গ্রামেও ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা। আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খালে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই উপজেলায় দুইজনের মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সময় খোলা মাঠ, বিল, জলাশয় বা উঁচু স্থানে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নেত্রকোণায় বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনও জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় বজ্রপাতে মৃত্যু: ৩ প্রাণহানির বিস্তারিত তথ্য

Update Time : ০৩:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নেত্রকোণায় বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটনায় শোক নেমে এসেছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার মদন ও কেন্দুয়া উপজেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই খোলা স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

মদন উপজেলার জয়পাশা গ্রামে বৃষ্টির সময় বাড়ির সামনের এলাকায় মাছ ধরতে যান রাজিব মিয়া (২৪)। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাজিব স্থানীয় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন  ইরান ইস্যুতে আরব লিগের জরুরি বৈঠক, কাতারের উদ্বেগ প্রকাশ

অন্যদিকে কেন্দুয়া উপজেলার মোড়াইল বিল এলাকায় সকালে মাছ ধরতে যান শামসুল হুদা (৫৫)। তিনি স্থানীয় দিগলী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবহাওয়া খারাপ থাকলেও তিনি বিলের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে কেউ তাকে রক্ষা করতে পারেননি।

একই উপজেলার সান্ধিকোণা গ্রামেও ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা। আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খালে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই উপজেলায় দুইজনের মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন  হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সময় খোলা মাঠ, বিল, জলাশয় বা উঁচু স্থানে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নেত্রকোণায় বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনও জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  এডিবির বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, বিস্তৃত হচ্ছে নারীদের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি