ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, জুলাইয়ে কমল আয় Logo ফরিদপুরে শিশু সাব্বির হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড Logo ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বগুড়ায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর Logo প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে স্বাগত জানিয়ে ফটিকছড়িতে বিএনপির আনন্দ মিছিল Logo নোবিপ্রবিতে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ Logo বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo রাজনৈতিক ঐক্যই স্থিতিশীল বাংলাদেশের ভিত্তি Logo রপ্তানিতে সুখবর, জুলাইয়ে ১২ মাসের সর্বোচ্চ ৪৭২ কোটি ডলার আয় Logo ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিল Logo পে স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের আপত্তি, তবু এগোচ্ছে সরকার

গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৬: যাবজ্জীবন শাস্তি, ক্ষতিপূরণে নতুন বিধান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ছবি: সংগৃহীত

গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৬ দেশের আইনি কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, মরদেহ উদ্ধার হয় অথবা পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে অপরাধীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে শুধু শাস্তির বিষয়ই নয়, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্র সেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

এ আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিধানও যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারও ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে।

এ ছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সুবিধার্থে গুম সনদ প্রদান এবং গুমসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরির বিধানও রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও আইনের অংশ করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত-সংক্রান্ত বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্ত সহজ হয়।

একই বৈঠকে দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি জীবদ্দশায় সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজের জীবনকাল পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এই সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, জুলাইয়ে কমল আয়

গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৬: যাবজ্জীবন শাস্তি, ক্ষতিপূরণে নতুন বিধান

Update Time : ১০:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৬ দেশের আইনি কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, মরদেহ উদ্ধার হয় অথবা পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে অপরাধীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুন  মে মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ

প্রস্তাবিত আইনে শুধু শাস্তির বিষয়ই নয়, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্র সেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

এ আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিধানও যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারও ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে।

আরও পড়ুন  সংসদে বিসিবি নিয়ে বিতর্ক, হাসনাতের মন্তব্যে পাল্টা জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এ ছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সুবিধার্থে গুম সনদ প্রদান এবং গুমসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরির বিধানও রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও আইনের অংশ করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত-সংক্রান্ত বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্ত সহজ হয়।

আরও পড়ুন  ধর্ষণ মামলায় ফাদার গ্রেগরী বেকসুর খালাস, উচ্চ আদালতে যাবে রাষ্ট্রপক্ষ

একই বৈঠকে দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি জীবদ্দশায় সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজের জীবনকাল পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এই সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।