হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে এবার কঠোর সতর্কতা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নিনির্বাপক, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। সোমবার (৩ আগস্ট) এক বার্তায় এ বিষয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিআরটিএ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৮১ নম্বর বিধি অনুযায়ী সাধারণ মোটরযানে তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট বা ভীতিকর শব্দ সৃষ্টি করে—এমন হর্ন বা যন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে বিভিন্ন সুরে শব্দ তৈরি করে এমন বহুমুখী হর্নও সাধারণ যানবাহনে ব্যবহার করা যাবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটারের ব্যবহার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। এসব হর্নের উচ্চ শব্দে পথচারী, চালক ও আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত শব্দ মানুষের জন্য বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
শুধু জনদুর্ভোগ নয়, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। বিআরটিএর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত শব্দের হর্ন চালকদের বেপরোয়া ও বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতাকে উৎসাহিত করতে পারে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিআরটিএর অফিসিয়াল রোড সেফটি তথ্যেও নিরাপদভাবে গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সাধারণ মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার কিংবা তীব্র ও বিকট শব্দ তৈরি করে এমন কোনো অননুমোদিত হর্ন বা যন্ত্র ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ গাড়িতে আগে থেকে এসব হর্ন লাগানো থাকলে তা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত সব ধরনের যানবাহনের ক্ষেত্রে বিষয়টি একই নয়। অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে নিয়োজিত একই ধরনের যানবাহন এই বিধিনিষেধের নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমের মধ্যে রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো ও সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনেই এসব যানবাহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিআরটিএ মনে করছে, সড়কে শব্দদূষণ কমানো এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বস্তিদায়ক করার জন্য এই নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে যানবাহনের চালক ও মালিকদের উচিত গাড়িতে ব্যবহৃত হর্নটি অনুমোদিত কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া। শুধু নিজের গাড়ির সুবিধার কথা না ভেবে অন্য চালক ও পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অতিরিক্ত শব্দের হর্ন অনেক সময় সামনে থাকা চালককে হঠাৎ চমকে দিতে পারে। পথচারীও অপ্রত্যাশিত শব্দে আতঙ্কিত হয়ে রাস্তা পারাপারের সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে একটি হর্নের ব্যবহার কখনো কখনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণেই যানবাহনে হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার আইনগতভাবেও সমস্যার কারণ হতে পারে। বিআরটিএ জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করে এসব হর্ন ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে গাড়ির মালিক ও চালকদের বিষয়টি হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হাইড্রোলিক হর্ন বা অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে এমন অননুমোদিত হর্ন ব্যবহারকারীদের জন্য বিআরটিএর বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে এসেছে। গাড়িতে এমন কোনো হর্ন থাকলে তা ব্যবহার না করার পাশাপাশি প্রয়োজনে অনুমোদিত হর্ন ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু ট্রাফিক আইন মানলেই হবে না, অন্য মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। একটি অপ্রয়োজনীয় বিকট হর্ন যেমন শব্দদূষণ বাড়ায়, তেমনি চালক ও পথচারীর স্বাভাবিক আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিআরটিএর নির্দেশনা মেনে চলা নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



























