ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, জুলাইয়ে কমল আয় Logo ফরিদপুরে শিশু সাব্বির হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড Logo ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বগুড়ায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর Logo প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে স্বাগত জানিয়ে ফটিকছড়িতে বিএনপির আনন্দ মিছিল Logo নোবিপ্রবিতে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ Logo বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo রাজনৈতিক ঐক্যই স্থিতিশীল বাংলাদেশের ভিত্তি Logo রপ্তানিতে সুখবর, জুলাইয়ে ১২ মাসের সর্বোচ্চ ৪৭২ কোটি ডলার আয় Logo ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিল Logo পে স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের আপত্তি, তবু এগোচ্ছে সরকার

বেইলি রোডে উন্নয়নকাজে অনিয়ম, ঠিকাদারকে শোকজ

বেইলি রোডে উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগে ডিএসসিসির পরিদর্শন

রাজধানীর বেইলি রোডে চলমান ফুটপাত ও ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্পটি অফিসার্স ক্লাব মোড় থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত বিস্তৃত।

রোববার (২ আগস্ট) রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তিনি বেশ কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম দেখতে পান।

যেসব অনিয়ম ধরা পড়ে:

  1. ৯ মিটার দীর্ঘ গাইড ওয়াল নির্মাণে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি।
  2. অনুমোদিত নকশা (Specification) ও কাজের সিডিউল অনুসরণ করা হয়নি।
  3. দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী বা কার্য-সহকারীর উপস্থিতি ছাড়াই রাতে কংক্রিট ঢালাই (Casting) চলছিল।
  4. মান নিয়ন্ত্রণ (Quality Control) নিশ্চিত না করেই নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল।

অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর ডিএসসিসি—

  1. স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত সব কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়।
  2. ইতোমধ্যে নির্মিত ৯ মিটার গাইড ওয়াল ভেঙে নতুন করে মানসম্মতভাবে নির্মাণের নির্দেশ দেয়।
  3. ভবিষ্যতে প্রকৌশলীদের উপস্থিতি ছাড়া কোনো ঢালাই বা গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ না করার নির্দেশনা দেয়।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান DIC & AW (JV)-কে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রচলিত আইন ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে থাকতে পারে—

  1. আর্থিক জরিমানা,
  2. বিল স্থগিত রাখা,
  3. কার্যাদেশ বাতিল,
  4. কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা,
  5. ভবিষ্যতে সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করলে সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সরকারি অর্থের অপচয় ঘটে এবং জননিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে মাঠপর্যায়ে আকস্মিক পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, জুলাইয়ে কমল আয়

বেইলি রোডে উন্নয়নকাজে অনিয়ম, ঠিকাদারকে শোকজ

Update Time : ১০:১৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বেইলি রোডে চলমান ফুটপাত ও ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্পটি অফিসার্স ক্লাব মোড় থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত বিস্তৃত।

রোববার (২ আগস্ট) রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তিনি বেশ কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম দেখতে পান।

যেসব অনিয়ম ধরা পড়ে:

  1. ৯ মিটার দীর্ঘ গাইড ওয়াল নির্মাণে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি।
  2. অনুমোদিত নকশা (Specification) ও কাজের সিডিউল অনুসরণ করা হয়নি।
  3. দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী বা কার্য-সহকারীর উপস্থিতি ছাড়াই রাতে কংক্রিট ঢালাই (Casting) চলছিল।
  4. মান নিয়ন্ত্রণ (Quality Control) নিশ্চিত না করেই নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল।

অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর ডিএসসিসি—

  1. স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত সব কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়।
  2. ইতোমধ্যে নির্মিত ৯ মিটার গাইড ওয়াল ভেঙে নতুন করে মানসম্মতভাবে নির্মাণের নির্দেশ দেয়।
  3. ভবিষ্যতে প্রকৌশলীদের উপস্থিতি ছাড়া কোনো ঢালাই বা গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ না করার নির্দেশনা দেয়।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান DIC & AW (JV)-কে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রচলিত আইন ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে থাকতে পারে—

  1. আর্থিক জরিমানা,
  2. বিল স্থগিত রাখা,
  3. কার্যাদেশ বাতিল,
  4. কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা,
  5. ভবিষ্যতে সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করলে সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সরকারি অর্থের অপচয় ঘটে এবং জননিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে মাঠপর্যায়ে আকস্মিক পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।