বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আইসিএপিপি মহাসচিবের সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গুরুত্ব বহন করছে। সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি)’-এর সেক্রেটারি জেনারেল ওহ সং নেতৃত্ব দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইসিএপিপির সেক্রেটারিয়েট অফিসার পার্ক বিয়ংচান।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বৈঠকের শুরুতে ওহ সং আইসিএপিপির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংগঠনটির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংলাপ এবং সম্পর্ক উন্নয়নে আইসিএপিপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আইসিএপিপি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।আলোচনার একপর্যায়ে আইসিএপিপির পরবর্তী স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা নিয়ে কথা হয়। ওহ সং জানান, সংগঠনটির আগামী স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সভায় অংশগ্রহণের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির বিষয়েও মত প্রকাশ করেন। বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আইসিএপিপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা। এ বিষয়ে ওহ সং আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পেতে পারে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় একটি দলের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আইসিএপিপির মতো একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ততা সেই সুযোগকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আইসিএপিপি মহাসচিবের সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা এবং সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।





























