ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেট পাস কাল, আসছে যেসব পরিবর্তন

সংসদে বাজেট অধিবেশনের প্রতীকী দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বাজেট পরিবর্তন এখন দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিল্পোদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আগামীকাল জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদে বাজেট অনুমোদনের পরই এটি অর্থ আইন হিসেবে কার্যকর হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি, অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ এবং বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব সংশোধন করা হচ্ছে। ফলে বাজেটের চূড়ান্ত রূপে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে খুচরা ব্যবসার ওপর প্রস্তাবিত প্যাকেজ ভ্যাট। প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, টার্নওভারের পরিমাণ যাই হোক না কেন, দেশের সব খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ ছোট মুদি দোকান, পোশাকের দোকান কিংবা স্থানীয় খুচরা ব্যবসাও ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সারা দেশের লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নতুন নিয়মের আওতায় চলে আসতেন।

তবে বাজেট ঘোষণার পরপরই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন দাবি করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ছোট ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে। ভ্যাট নিবন্ধন, হিসাব সংরক্ষণ, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং কর-সংক্রান্ত নানা জটিলতা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে হয়রানির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তারা।

এসব আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্যাকেজ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে। ফলে বর্তমানে যে নিয়ম চালু রয়েছে, সেটিই বহাল থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ বছরে ৫০ লাখ টাকার কম টার্নওভার রয়েছে এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগের মতোই বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে থাকতে পারে। এতে লাখো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার রয়েছে এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয়। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই সীমা অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হবে না এবং ব্যবসা পরিচালনাও সহজ হবে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন।

বাজেট পরিবর্তন-এর আরেকটি বড় দিক হলো তামাক খাত। প্রাথমিক বাজেটে নিকোটিন পাউচের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসছে সরকার। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা হতে পারে। পাশাপাশি প্রচলিত সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত কর বৃদ্ধিও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থ বিল সংসদে আইন হিসেবে পাস হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ধারা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কমবে, অন্যদিকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসাবান্ধব বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপের মধ্যে নতুন কর আরোপ করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাজেটে বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তারা।

তবে বিশেষজ্ঞদের আরেকটি মত হলো, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু করের আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসা নিরুৎসাহিত না হয়। প্রযুক্তিনির্ভর করব্যবস্থা, অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন, স্বচ্ছ কর প্রশাসন এবং সহজ রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালু করা গেলে রাজস্ব আদায় যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও স্বেচ্ছায় কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, বাজেটে করের হার বাড়ানোর চেয়ে কর ব্যবস্থাকে সহজ করা বেশি প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত জটিলতা থাকলে অনেক ছোট ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির বাইরে থেকে যান। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি ব্যবসায়ীরাও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

এবারের বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই খাত দেশের মোট কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ সৃষ্টি করে এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করে বাজেট বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজেট পাস হওয়ার পর সংশোধিত অর্থ আইন কার্যকর হবে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। তখন কোন কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিধান কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এখন সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সাধারণ মানুষের জীবনেও এই বাজেট পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ কর ও শুল্কের পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমতে বা বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারমূল্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে। তাই বাজেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, দেশের প্রতিটি ভোক্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, বাজেট পরিবর্তন নিয়ে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংসদে বাজেট পাস হওয়ার পর চূড়ান্ত বিধান কার্যকর হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পখাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর বাস্তব প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেট পাস কাল, আসছে যেসব পরিবর্তন

Update Time : ০৯:১০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাজেট পরিবর্তন এখন দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিল্পোদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আগামীকাল জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদে বাজেট অনুমোদনের পরই এটি অর্থ আইন হিসেবে কার্যকর হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি, অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ এবং বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব সংশোধন করা হচ্ছে। ফলে বাজেটের চূড়ান্ত রূপে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে খুচরা ব্যবসার ওপর প্রস্তাবিত প্যাকেজ ভ্যাট। প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, টার্নওভারের পরিমাণ যাই হোক না কেন, দেশের সব খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ ছোট মুদি দোকান, পোশাকের দোকান কিংবা স্থানীয় খুচরা ব্যবসাও ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সারা দেশের লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নতুন নিয়মের আওতায় চলে আসতেন।

তবে বাজেট ঘোষণার পরপরই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন দাবি করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ছোট ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে। ভ্যাট নিবন্ধন, হিসাব সংরক্ষণ, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং কর-সংক্রান্ত নানা জটিলতা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে হয়রানির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তারা।

আরও পড়ুন  সৌদিতে হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৪১ বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

এসব আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্যাকেজ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে। ফলে বর্তমানে যে নিয়ম চালু রয়েছে, সেটিই বহাল থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ বছরে ৫০ লাখ টাকার কম টার্নওভার রয়েছে এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগের মতোই বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে থাকতে পারে। এতে লাখো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার রয়েছে এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয়। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই সীমা অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হবে না এবং ব্যবসা পরিচালনাও সহজ হবে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন।

বাজেট পরিবর্তন-এর আরেকটি বড় দিক হলো তামাক খাত। প্রাথমিক বাজেটে নিকোটিন পাউচের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসছে সরকার। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা হতে পারে। পাশাপাশি প্রচলিত সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত কর বৃদ্ধিও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থ বিল সংসদে আইন হিসেবে পাস হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ধারা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কমবে, অন্যদিকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যৌথ কমিটি: ৫ বিরোধী এমপির নাম দিলেন শফিকুর রহমান

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসাবান্ধব বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপের মধ্যে নতুন কর আরোপ করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাজেটে বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তারা।

তবে বিশেষজ্ঞদের আরেকটি মত হলো, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু করের আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসা নিরুৎসাহিত না হয়। প্রযুক্তিনির্ভর করব্যবস্থা, অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন, স্বচ্ছ কর প্রশাসন এবং সহজ রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালু করা গেলে রাজস্ব আদায় যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও স্বেচ্ছায় কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, বাজেটে করের হার বাড়ানোর চেয়ে কর ব্যবস্থাকে সহজ করা বেশি প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত জটিলতা থাকলে অনেক ছোট ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির বাইরে থেকে যান। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি ব্যবসায়ীরাও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

এবারের বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই খাত দেশের মোট কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ সৃষ্টি করে এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করে বাজেট বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  জ্যৈষ্ঠে রাজধানীর বাজারে মৌসুমি ফলে ভরপুর রঙিন পসরা

বাজেট পাস হওয়ার পর সংশোধিত অর্থ আইন কার্যকর হবে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। তখন কোন কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিধান কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এখন সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সাধারণ মানুষের জীবনেও এই বাজেট পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ কর ও শুল্কের পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমতে বা বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারমূল্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে। তাই বাজেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, দেশের প্রতিটি ভোক্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, বাজেট পরিবর্তন নিয়ে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংসদে বাজেট পাস হওয়ার পর চূড়ান্ত বিধান কার্যকর হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পখাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর বাস্তব প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠবে।