ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে ভয়াবহ বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ

বন্যার পানিতে প্লাবিত আসামের একটি এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

আসামে ভয়াবহ বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের লাগাতার বর্ষণে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে অন্তত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং হাজারো পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ইতোমধ্যে একাধিক জেলা আক্রান্ত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ফলে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।

প্রবল স্রোতে নদীর তীর ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে, আবার কেউ কেউ উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি খাত। শত শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত না কমলে তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।

রাজ্যের বিভিন্ন নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

উদ্ধার কাজে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছেন। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা বেড়েছে। আসামের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কারণে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামে ভয়াবহ বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ

Update Time : ০৯:০৫:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

আসামে ভয়াবহ বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের লাগাতার বর্ষণে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে অন্তত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং হাজারো পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ইতোমধ্যে একাধিক জেলা আক্রান্ত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ফলে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন  গরু কোরবানি না করার আহ্বান পশ্চিমবঙ্গের আলেমদের

প্রবল স্রোতে নদীর তীর ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে, আবার কেউ কেউ উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি খাত। শত শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত না কমলে তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় নারীদের হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কঠোর রায়

রাজ্যের বিভিন্ন নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

উদ্ধার কাজে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছেন। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার: নতুন সহযোগিতার বড় ঘোষণা

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা বেড়েছে। আসামের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কারণে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।