রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত নিউগিনি হাউজিং প্রকল্পে এক সংঘবদ্ধ হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দেশের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি ভবনেও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাউজিং কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকদিন আগে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবিকৃত চাঁদা না পেয়েই দুর্বৃত্তরা এই ভয়ানক তাণ্ডব চালিয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় পুলিশের দিক থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদের নির্মাণাধীন ওই নিউ গিনি হাউজিং প্রকল্পে হঠাৎ করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। আবাসিক এলাকার প্রধান ফটক থেকে দুর্বৃত্তরা প্রথমে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এরপর আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং কয়েকজনকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়।
এক ভুক্তভোগী ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, দুর্বৃত্তরা তাদের রুমে ঢুকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। তিনি জানান, হামলাকারীরা কয়েকজনকে চাকু দিয়ে আঘাত করেছে এবং কারও কারও মাথায় আঘাত করেছে। ওই ভুক্তভোগীর নিজের পেটে ও পায়ে ছুরির আঘাত লেগেছে এবং তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলাকারীদের হাতে পিস্তল ছিল এবং তারা পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ জনের মতো লোক এই হামলায় অংশ নেয় এবং ভেতরের সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এই হাউজিং সোসাইটির ভেতরেই ছিল জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। দুর্বৃত্তরা সেখানেও ব্যাপক হামলা চালায় এবং মূল্যবান অনেক সরঞ্জাম ভেঙে ফেলে।
সালমান মুক্তাদির হতাশা প্রকাশ করে জানান, এখানে অনেকগুলো শুট করা হয় এবং একেকটি শুটে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০-৪০টা ক্লায়েন্টের কাজ যখন এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তখন এর ক্ষতির পরিমাণ চোখ বন্ধ করেও কিছুটা আঁচ করা সম্ভব।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর এক কর্মী জানান, হামলাকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তারা এসেই খুব দ্রুতগতিতে সবকিছু লুটপাট শুরু করে। তারা যা কিছু নিতে পেরেছে তা নিয়ে গেছে এবং যেগুলো নিতে পারেনি, সেগুলো নির্মমভাবে ভাঙচুর করেছে।
এদিকে হাউজিং সোসাইটির মালিকপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র দু’মাস আগেও ঠিক একই কায়দায় সেখানে হামলা চালানো হয়েছিল এবং তখনো মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তাদের দাবি, এবারের হামলা ও লুটপাটে প্রায় কোটি টাকার মালামাল খোয়া গেছে।
পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ উঠলেও ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পুলিশ সেখান থেকে দুটি ছররা ও চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, ভূমি দখল-বেদখল নিয়ে এই বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে এবং এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে দাবি করেছে যে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন শাখা এই ঘটনার গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
নিউ গিনি হাউজিং সোসাইটি ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির উভয়েই এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করার কথা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, এর আগে মিরপুর ১-এর আড্ডা ক্লিনিকেও প্রায় একই কায়দায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছিল।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন