হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য ইরানের দেওয়া সাত দিনের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক সামুদ্রিক চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই পরিকল্পনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তেহরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলা। এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছে।
আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি গ্রহণ করার পর থেকেই সাত দিনের সময়সীমা শুরু হতে পারে। ইরানের দাবি, প্রস্তাবের শর্তগুলো নতুন কোনো বিষয় নয়, বরং এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সমঝোতার সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেননি। ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে ইরানের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে চলার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটি বলা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্বের কারণে এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে চলমান সংকটের প্রভাব তেলবাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও পড়ছে। ইরানের প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও এর প্রভাব দেখা গেছে।
এদিকে ইরানের ভেতরেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে বিভিন্ন মত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের মাধ্যমে নেওয়া হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ সামনে কীভাবে এগোয়, তা নির্ভর করবে দুই পক্ষের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন