লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন (১৫)। ক্লাসে বই-ব্যাগ রেখে বাইরে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিখোঁজ সাব্বির হোসেন উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ভাতিটারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি হলিল্যান্ড মডেল স্কুলের নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা তার দ্রুত সন্ধান পাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় সাব্বির। সে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যালয়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্কুলে পৌঁছায়। এরপর তার সহপাঠীরা তাকে বিদ্যালয়ে দেখতে পেয়েছিল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্কুলে পৌঁছে সাব্বির নিজের ক্লাসরুমে বই ও ব্যাগ রেখে দেয়। কিছু সময় পর কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে সে শ্রেণিকক্ষের বাইরে যায়। তবে এরপর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর তারা আবার ক্লাসরুমে ফিরে আসে। কিন্তু সাব্বির আর তাদের সঙ্গে ফিরে আসেনি। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম শেষে বিকেল ৪টায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। অন্য শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও সাব্বির বাড়ি ফেরেনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ সাব্বিরকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন পরিবার জানতে পারে যে সে বিদ্যালয়ে গেলেও পরে নিখোঁজ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, বন্ধুদের বাসা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালান। কিন্তু কোথাও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।
নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে সাব্বিরের বাবা-মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাব্বিরের সন্ধান চেয়ে পোস্ট করছেন।
হলিল্যান্ড মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মাহফুজ আমিন বলেন, শিক্ষার্থীটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও কোনো তথ্য না পাওয়ায় আদিতমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সাব্বিরের সন্ধান পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
বুধবার সকালে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এবং সহপাঠীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এলাকাবাসীও সাব্বিরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। কেউ তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত পুলিশ বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনাই এখন সবার প্রধান প্রত্যাশা।



























