নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবারকে ঘিরে নতুন এক মানবিক উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে। রামিসার মায়ের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং সন্তানের মৃত্যুজনিত গভীর মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত পারভীন আক্তারকে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পারভীন আক্তার বর্তমানে শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনের জটিল সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই তার চিকিৎসার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একসঙ্গে তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, একমাত্র সন্তানের নির্মম মৃত্যুর পর থেকে পারভীন আক্তার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। শোক, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে আগে থেকে থাকা শারীরিক অসুস্থতাগুলোও দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং পরিপাকতন্ত্রসংক্রান্ত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু সন্তানের মৃত্যুর পর এসব সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে তারা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা সহায়তার চেষ্টা শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে রামিসার বাবা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুরো বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং পারভীন আক্তারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে উদ্যোগী হন।
ডা. রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে পারভীন আক্তারকে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত বহুমুখী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ণয়ের কাজও চলছে। চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তাদের সম্মিলিত পরামর্শের ভিত্তিতে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
চিকিৎসকদের মতে, গভীর শোক এবং মানসিক আঘাত অনেক সময় মানুষের শারীরিক অসুস্থতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রোগ থাকলে মানসিক চাপের কারণে উপসর্গগুলো দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে। পারভীন আক্তারের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, সন্তানের মৃত্যু একজন মায়ের জীবনে সবচেয়ে বড় আঘাতগুলোর একটি। এমন পরিস্থিতিতে শুধু শারীরিক চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়, মানসিক সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই তার চিকিৎসায় বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মনোপরামর্শদাতাদের তত্ত্বাবধানে পারভীন আক্তারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। নিয়মিত পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পারভীন আক্তারের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসক দল পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ডা. রফিকুল ইসলামের এই মানবিক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের আশা, উন্নত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে পারভীন আক্তার ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং ভয়াবহ এই শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবেন। স্থানীয়দের মতে, একটি পরিবারের জন্য এমন দুঃসময়ে চিকিৎসা সহায়তা এবং মানসিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্তান হারানোর মতো মর্মান্তিক ঘটনার পর একজন মায়ের পুনরুদ্ধারে সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এখন একটাই প্রত্যাশা করছেন—রামিসার মায়ের চিকিৎসা সফল হোক এবং তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এমন মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।


























