ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ আ.লীগের অপচেষ্টা রুখতে রাজপথে যুবদলের নেতারা

চিত্রঃ পল্টনে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাদের বিক্ষোভ মিছিল। (সংগৃহীত)

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক তৎপরতা মোকাবিলার ঘোষণা দিয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা। নিষিদ্ধ আ.লীগের অপচেষ্টা রুখতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। কর্মসূচি থেকে আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রতিহতের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত রাজনৈতিক এলাকা পল্টনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যুবদলের সাবেক ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মিছিলটি পল্টন ফার্স হোটেলের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচিজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে এবং সে ধরনের যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করতে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।

 

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। প্রয়োজনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে যুবদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতারা আরও বলেন, দেশের জনগণ অতীতে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তাই ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে যুবদলের সাবেক সদস্য এবং ছাত্রদলের সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুবদলের সাবেক সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল এবং জাকির হোসেন খান।

 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মাসুদ, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার জাহিদ এবং শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ দিপুসহ আরও অনেকে। কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আজিজুল হক পাটোয়ারী, কোয়েল হোসেন, সবুর খান সাগর, স্বপন মণ্ডল, মিরাজ আজিম, মাজেদুল ইসলাম মাসুম এবং রবিউল হাসান আরিফ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ানের সাবেক ছাত্রনেতারাও এ কর্মসূচিতে যোগ দেন।

 

সমাবেশে উপস্থিত নেতারা দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত করার কথাও উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন। এর অংশ হিসেবেই রাজধানীতে এ ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।

 

পল্টনের এ কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়। তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে সুশৃঙ্খলভাবে স্থান ত্যাগ করেন। যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাদের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও কর্মসূচি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সক্রিয়তা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ আ.লীগের অপচেষ্টা রুখতে রাজপথে যুবদলের নেতারা

Update Time : ১২:৫৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক তৎপরতা মোকাবিলার ঘোষণা দিয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা। নিষিদ্ধ আ.লীগের অপচেষ্টা রুখতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। কর্মসূচি থেকে আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রতিহতের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত রাজনৈতিক এলাকা পল্টনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যুবদলের সাবেক ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মিছিলটি পল্টন ফার্স হোটেলের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচিজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে এবং সে ধরনের যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করতে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।

আরও পড়ুন  নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিয়ে মন্তব্য রাশেদ খাঁনের

 

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। প্রয়োজনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে যুবদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতারা আরও বলেন, দেশের জনগণ অতীতে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তাই ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে যুবদলের সাবেক সদস্য এবং ছাত্রদলের সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুবদলের সাবেক সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল এবং জাকির হোসেন খান।

আরও পড়ুন  পরকীয়া প্রেমিকাসহ স্ত্রীর হাতে ধরা, পদ হারালেন জামায়াত নেতা

 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মাসুদ, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার জাহিদ এবং শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ দিপুসহ আরও অনেকে। কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আজিজুল হক পাটোয়ারী, কোয়েল হোসেন, সবুর খান সাগর, স্বপন মণ্ডল, মিরাজ আজিম, মাজেদুল ইসলাম মাসুম এবং রবিউল হাসান আরিফ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ানের সাবেক ছাত্রনেতারাও এ কর্মসূচিতে যোগ দেন।

 

সমাবেশে উপস্থিত নেতারা দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত করার কথাও উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন। এর অংশ হিসেবেই রাজধানীতে এ ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত: ডা. জাহেদ

 

পল্টনের এ কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়। তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে সুশৃঙ্খলভাবে স্থান ত্যাগ করেন। যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাদের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও কর্মসূচি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সক্রিয়তা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।