ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

WTC ফাইনাল: বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ও ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা।ছবি: সংগৃহীত

WTC ফাইনাল-এর দৌড়ে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা আরও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে। কলম্বো টেস্টে ভারত জিতলে পয়েন্ট শতাংশে বাংলাদেশকে টপকে চারে উঠে যেত। কিন্তু শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত প্রতিরোধে ম্যাচ ড্র হওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে ভারতের। ফলে ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ চতুর্থ, আর ৫১.৫২ শতাংশ নিয়ে ভারত পঞ্চম। ICC-এর সর্বশেষ হিসাবেও বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের লড়াইয়ে থাকার সুযোগ বেশ ভালো অবস্থায় আছে।

অস্ট্রেলিয়া এখন ৮০ শতাংশ পিসিটি নিয়ে শীর্ষে। তাদের পরেই দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। তিন দলেরই সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, আবার একে অন্যের বিপক্ষেও খেলতে হবে। ফলে শীর্ষ দলগুলোর পারস্পরিক লড়াইয়ে পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বাকি ১২ টেস্টের মধ্যে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ আছে। তাই আপাতত সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও তাদের পথ পুরোপুরি সহজ নয়।

বাংলাদেশের গল্পটা অবশ্য আরও সরল। সামনে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্ট। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আরও দুটি ম্যাচ। এই ছয় টেস্ট থেকেই যত বেশি পয়েন্ট নেওয়া যাবে, WTC ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তত বাস্তব হবে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে চার ম্যাচের চারটিতেই জিততে পারলে বাংলাদেশের পিসিটি ৬০ শতাংশের ওপরে চলে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগানোই হবে নাজমুল হোসেন শান্তদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ভারতের অবস্থাটা তুলনামূলক কঠিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলেও কলম্বোর ড্র তাদের প্রয়োজনীয় পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি। এখন বাকি সাত টেস্টের দুটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এবং পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অর্থাৎ সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ, কঠিন কন্ডিশন এবং ভুল করার খুব কম সুযোগ। ভারতকে শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই হবে না; একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের ফলও তাদের পক্ষে যেতে হবে।

নিউজিল্যান্ডও ফাইনালের লড়াইয়ে বেশ ভালো অবস্থানে আছে। তাদের সামনে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও ঘরের মাঠে একাধিক সিরিজ খেলবে। ফলে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে কে কোথায় পয়েন্ট হারায়, সেটিই শেষ দিকে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। WTC-তে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের জন্য ১২, ড্রয়ে ৪ এবং টাই হলে ৬ পয়েন্ট দেওয়া হয়; আর অবস্থান নির্ধারিত হয় পয়েন্টের শতাংশ দিয়ে।

তাই বাংলাদেশের জন্য এখন হিসাবটা খুব পরিষ্কার—নিজেদের ম্যাচ জিততে হবে, বিশেষ করে ঘরের মাঠে। অন্যদিকে ভারতকে কঠিন সফরে বড় ফল এনে দিতে হবে। WTC ফাইনালে জায়গা পেতে শেষ পর্যন্ত ৬০ শতাংশের আশপাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট পিসিটিই নিশ্চয়তা নয়; কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলও সমীকরণ বদলে দিতে পারে। আগামী কয়েকটি সিরিজেই তাই পরিষ্কার হয়ে যাবে, বাংলাদেশের স্বপ্ন কতটা দূর যেতে পারে। WTC-এর অফিসিয়াল পয়েন্ট তালিকা ও সূচি ICC World Test Championship থেকে দেখা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

WTC ফাইনাল: বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ

Update Time : ০৯:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

WTC ফাইনাল-এর দৌড়ে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা আরও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে। কলম্বো টেস্টে ভারত জিতলে পয়েন্ট শতাংশে বাংলাদেশকে টপকে চারে উঠে যেত। কিন্তু শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত প্রতিরোধে ম্যাচ ড্র হওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে ভারতের। ফলে ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ চতুর্থ, আর ৫১.৫২ শতাংশ নিয়ে ভারত পঞ্চম। ICC-এর সর্বশেষ হিসাবেও বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের লড়াইয়ে থাকার সুযোগ বেশ ভালো অবস্থায় আছে।

অস্ট্রেলিয়া এখন ৮০ শতাংশ পিসিটি নিয়ে শীর্ষে। তাদের পরেই দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। তিন দলেরই সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, আবার একে অন্যের বিপক্ষেও খেলতে হবে। ফলে শীর্ষ দলগুলোর পারস্পরিক লড়াইয়ে পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বাকি ১২ টেস্টের মধ্যে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ আছে। তাই আপাতত সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও তাদের পথ পুরোপুরি সহজ নয়।

আরও পড়ুন  হ্যারি কেইন ফিরছেন ইংল্যান্ডে? তাঁর চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের গল্পটা অবশ্য আরও সরল। সামনে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্ট। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আরও দুটি ম্যাচ। এই ছয় টেস্ট থেকেই যত বেশি পয়েন্ট নেওয়া যাবে, WTC ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তত বাস্তব হবে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে চার ম্যাচের চারটিতেই জিততে পারলে বাংলাদেশের পিসিটি ৬০ শতাংশের ওপরে চলে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগানোই হবে নাজমুল হোসেন শান্তদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ভারতের অবস্থাটা তুলনামূলক কঠিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলেও কলম্বোর ড্র তাদের প্রয়োজনীয় পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি। এখন বাকি সাত টেস্টের দুটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এবং পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অর্থাৎ সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ, কঠিন কন্ডিশন এবং ভুল করার খুব কম সুযোগ। ভারতকে শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই হবে না; একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের ফলও তাদের পক্ষে যেতে হবে।

আরও পড়ুন  প্যারাগুয়ের কাছে তুরস্কের হার, ১০ জন নিয়েও জয়

নিউজিল্যান্ডও ফাইনালের লড়াইয়ে বেশ ভালো অবস্থানে আছে। তাদের সামনে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও ঘরের মাঠে একাধিক সিরিজ খেলবে। ফলে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে কে কোথায় পয়েন্ট হারায়, সেটিই শেষ দিকে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। WTC-তে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের জন্য ১২, ড্রয়ে ৪ এবং টাই হলে ৬ পয়েন্ট দেওয়া হয়; আর অবস্থান নির্ধারিত হয় পয়েন্টের শতাংশ দিয়ে।

আরও পড়ুন  ফিফার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক, সদস্যদের ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব

তাই বাংলাদেশের জন্য এখন হিসাবটা খুব পরিষ্কার—নিজেদের ম্যাচ জিততে হবে, বিশেষ করে ঘরের মাঠে। অন্যদিকে ভারতকে কঠিন সফরে বড় ফল এনে দিতে হবে। WTC ফাইনালে জায়গা পেতে শেষ পর্যন্ত ৬০ শতাংশের আশপাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট পিসিটিই নিশ্চয়তা নয়; কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলও সমীকরণ বদলে দিতে পারে। আগামী কয়েকটি সিরিজেই তাই পরিষ্কার হয়ে যাবে, বাংলাদেশের স্বপ্ন কতটা দূর যেতে পারে। WTC-এর অফিসিয়াল পয়েন্ট তালিকা ও সূচি ICC World Test Championship থেকে দেখা যাবে।