ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo AI দুনিয়ায় নতুন চমক; মানুষের মতোই চিন্তা করতে পারবে ‘ChatGPT-5’! Logo চীনের জুন: যখন দেশজুড়ে শুরু হয় গ্র্যাজুয়েশন উৎসব Logo বিচারকের দায়িত্বটা ততটা সহজ নয়: মোশাররফ করিম Logo ফোন নিরাপত্তা টিপস: কার্যকর উপায়ে হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন Logo জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ কূটনৈতিক ঘোষণা Logo নেইমারের ফিটনেস আপডেট নিয়ে আনচেলত্তির অবিশ্বাস্য ও বিস্ফোরক ঘোষণা Logo ৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে ভারত Logo মমতার হুঙ্কার: আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে, বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা Logo জ্ঞানচর্চার নতুন প্ল্যাটফর্ম আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট Logo ‘জন নায়াগন’ সেন্সর আপডেট: চাঞ্চল্যকর ভুয়া সার্টিফিকেটের সত্য জানুন

খেলাধুলা তরুণ-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখে : মীর হেলাল

খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ সমাজ গড়ার আহ্বান। ছবি: সংগৃহীত

খেলাধুলা তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে কীভাবে ভূমিকা রাখে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা তরুণদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ, দলগত নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে। ফলে তারা সহজে মাদক, অপরাধ কিংবা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে দূরে থাকে।

সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা

সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ, খেলার মাঠ সংরক্ষণ, যুবদের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও তরুণদের ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। গান, নাটক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও বিতর্কের মতো সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে কিশোর-তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম বৃদ্ধি পায়।

‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব-২০২৬’

চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ক্রীড়া উৎসবের লক্ষ্য হলো তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। উৎসবে বিভিন্ন জেলার দল অংশ নিচ্ছে এবং ফুটবলসহ একাধিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

তরুণদের প্রতি আহ্বান

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; একজন ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে খেলাধুলা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পারিবারিক মূল্যবোধ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণদের মাদক, সাইবার অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে দেশ গঠনের কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

কেন খেলাধুলা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি শিক্ষার সমন্বিত বিকাশ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠমুখী তরুণরাই ভবিষ্যতে সুস্থ, উৎপাদনশীল ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

খেলাধুলা ও মাদক প্রতিরোধের সম্পর্ক

বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়া কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। খেলাধুলা তাদের অবসর সময়কে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করে। মাঠে অনুশীলন, প্রতিযোগিতা এবং দলগত কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় তারা ক্ষতিকর সঙ্গ ও নেতিবাচক পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, খেলাধুলার সময় শরীরে এন্ডোরফিনডোপামিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমায়, আনন্দের অনুভূতি বাড়ায় এবং হতাশা বা একাকীত্ব কমাতে সহায়তা করে। ফলে অনেক তরুণ মানসিক চাপ কমানোর জন্য মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার পরিবর্তে খেলাধুলাকে বেছে নিতে পারে।

পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মাঠে খেলতে উৎসাহিত করা, স্কুল-কলেজে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং অভিভাবকদের সন্তানদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সামাজিক দক্ষতারও বিকাশ ঘটে।

প্রযুক্তির যুগে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

বর্তমানে স্মার্টফোন, ভিডিও গেম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানোর প্রবণতা তরুণদের শারীরিক কার্যক্রম কমিয়ে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা কিশোর-কিশোরীদের জন্য উপকারী। নিয়মিত খেলাধুলা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ

তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সরকার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্টেডিয়াম, মিনি স্টেডিয়াম এবং খেলার মাঠ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে গ্রামাঞ্চল থেকেও নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার সমন্বয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও তরুণদের ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কনের মতো কার্যক্রম সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করে। ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সমন্বিত চর্চা একটি সহনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক।

দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা

বাংলাদেশ বর্তমানে জনসংখ্যাগত সুবিধা (Demographic Dividend) কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশই তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে খেলাধুলা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বিত বিকাশ প্রয়োজন। সুস্থ ও কর্মক্ষম তরুণরাই ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলে?

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেই স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলাকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। এসব দেশে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও এই ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা গেলে তরুণ সমাজকে মাদক, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু বড় শহরে নয়, প্রত্যন্ত এলাকাতেও নিরাপদ খেলার মাঠ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট, স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া উৎসব এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন বাড়াতে হবে। এতে তরুণদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও ইতিবাচক সমাজ গড়ে তোলার পথ আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

AI দুনিয়ায় নতুন চমক; মানুষের মতোই চিন্তা করতে পারবে ‘ChatGPT-5’!

খেলাধুলা তরুণ-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখে : মীর হেলাল

Update Time : ১০:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

খেলাধুলা তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে কীভাবে ভূমিকা রাখে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা তরুণদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ, দলগত নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে। ফলে তারা সহজে মাদক, অপরাধ কিংবা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে দূরে থাকে।

সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা

সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ, খেলার মাঠ সংরক্ষণ, যুবদের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও তরুণদের ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। গান, নাটক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও বিতর্কের মতো সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে কিশোর-তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম বৃদ্ধি পায়।

‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব-২০২৬’

চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ক্রীড়া উৎসবের লক্ষ্য হলো তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। উৎসবে বিভিন্ন জেলার দল অংশ নিচ্ছে এবং ফুটবলসহ একাধিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  স্টার অ্যাওয়ার্ড পেলেন তরুণ সংগঠকরা

তরুণদের প্রতি আহ্বান

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; একজন ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে খেলাধুলা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পারিবারিক মূল্যবোধ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণদের মাদক, সাইবার অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে দেশ গঠনের কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

কেন খেলাধুলা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি শিক্ষার সমন্বিত বিকাশ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠমুখী তরুণরাই ভবিষ্যতে সুস্থ, উৎপাদনশীল ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

খেলাধুলা ও মাদক প্রতিরোধের সম্পর্ক

বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়া কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। খেলাধুলা তাদের অবসর সময়কে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করে। মাঠে অনুশীলন, প্রতিযোগিতা এবং দলগত কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় তারা ক্ষতিকর সঙ্গ ও নেতিবাচক পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, খেলাধুলার সময় শরীরে এন্ডোরফিনডোপামিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমায়, আনন্দের অনুভূতি বাড়ায় এবং হতাশা বা একাকীত্ব কমাতে সহায়তা করে। ফলে অনেক তরুণ মানসিক চাপ কমানোর জন্য মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার পরিবর্তে খেলাধুলাকে বেছে নিতে পারে।

আরও পড়ুন  নেশায় নষ্ট হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম: জ্বালানিমন্ত্রী টুকু

পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মাঠে খেলতে উৎসাহিত করা, স্কুল-কলেজে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং অভিভাবকদের সন্তানদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সামাজিক দক্ষতারও বিকাশ ঘটে।

প্রযুক্তির যুগে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

বর্তমানে স্মার্টফোন, ভিডিও গেম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানোর প্রবণতা তরুণদের শারীরিক কার্যক্রম কমিয়ে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা কিশোর-কিশোরীদের জন্য উপকারী। নিয়মিত খেলাধুলা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ

তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সরকার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্টেডিয়াম, মিনি স্টেডিয়াম এবং খেলার মাঠ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে গ্রামাঞ্চল থেকেও নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার সমন্বয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও তরুণদের ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কনের মতো কার্যক্রম সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করে। ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সমন্বিত চর্চা একটি সহনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় বরাদ্দের ছড়াছড়ি:উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন গতি

দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা

বাংলাদেশ বর্তমানে জনসংখ্যাগত সুবিধা (Demographic Dividend) কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশই তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে খেলাধুলা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বিত বিকাশ প্রয়োজন। সুস্থ ও কর্মক্ষম তরুণরাই ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলে?

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেই স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলাকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। এসব দেশে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও এই ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা গেলে তরুণ সমাজকে মাদক, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু বড় শহরে নয়, প্রত্যন্ত এলাকাতেও নিরাপদ খেলার মাঠ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট, স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া উৎসব এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন বাড়াতে হবে। এতে তরুণদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও ইতিবাচক সমাজ গড়ে তোলার পথ আরও শক্তিশালী হবে।