ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সব দল বলতে কি আওয়ামী লীগকেও বোঝানো হয়েছে? প্রশ্ন তুললেন সারজিস আলম Logo প্রিপেইড মিটার চার্জ বাতিল ২০২৬: গ্রাহকদের বড় স্বস্তির ঘোষণা Logo আমির খানের বিয়ে: গৌরীর সঙ্গে নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি Logo তাপপ্রবাহ পূর্বাভাস: জুনজুড়ে গরম ও কম বৃষ্টির বিশেষ চিত্র Logo ওয়ালটন চাকরি ২০২৬: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে আবেদন অনলাইনে Logo লাইভ শপিং চাকরি সার্কুলার: আকর্ষণীয় বেতনে নিয়োগের সুযোগ Logo সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে নতুন জটিলতা, খুঁজে মিলছে না কর্মকর্তাদের Logo হাম মৃত্যু ছাড়াল ৬০০, নতুন আক্রান্ত আরও ৫৫ Logo আর্জেন্টিনা নয়, ব্রাজিলও নয়; সবচেয়ে দামি দল ফ্রান্স Logo সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও পূর্ণ গাইড

নেশায় নষ্ট হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম: জ্বালানিমন্ত্রী টুকু

একটা জেনারেশন নেশার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মাদকাসক্তির কারণে দেশের একটি পুরো প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে হলে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের বড় একটি অংশ অবসাদ, হতাশা এবং খারাপ সঙ্গের কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পরিবার ও সমাজ যদি সময়মতো তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তাহলে অনেকেই এই ভয়াবহতা থেকে ফিরে আসতে পারবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর সুস্থ থাকে, মন ভালো থাকে এবং তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “একটা জেনারেশন নেশার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো নতুন প্রজন্মকে সেই ভুল পথ থেকে দূরে রাখা। তাদের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত সময় থাকা উচিত। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত মাঠে যেতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, তিনি জেলা প্রশাসককে প্রতিটি শ্রেণিতে সপ্তাহে অন্তত দুই ঘণ্টার গেমস ক্লাস চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবলসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শহরাঞ্চলে বড় বড় বহুতল ভবন নির্মাণ হলেও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ রাখা হচ্ছে না। ফলে শিশুরা মোবাইল ফোন ও ভার্চ্যুয়াল জগতে বেশি সময় কাটাচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মন্ত্রী বলেন, আগে মহল্লা কিংবা গ্রামের খোলা মাঠে শিশু-কিশোরেরা বিকেলে খেলাধুলা করত। এখন সেই সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। মাঠ কমে যাওয়ায় তরুণদের অবসর সময় কাটানোর সুস্থ মাধ্যমও কমে গেছে।

তিনি মনে করেন, খেলাধুলার সুযোগ বাড়লে তরুণরা আড্ডা বা খারাপ সঙ্গের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর কাজে যুক্ত থাকবে। এতে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও মাদকাসক্তি কমে আসবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে সফল হতে হলে শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষা এমন একটি সম্পদ যা কখনো হারিয়ে যায় না। অর্থ-সম্পদ হারাতে পারে, কিন্তু শিক্ষা একজন মানুষকে সারাজীবন পথ দেখায়। তাই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তাঁর দাদা ছিলেন একজন কৃষিজীবী মানুষ। কিন্তু শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেই তিনি ১৯২৪ সালে নিজের ছেলেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তখন সিরাজগঞ্জে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুব সীমিত ছিল। ম্যাট্রিক পাস করার পর শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে পড়তে হতো। সীমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁর পরিবার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষও যদি শিক্ষার স্বপ্ন দেখতে পারে, তাহলে বর্তমান প্রজন্মের সামনে আরও বড় সুযোগ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি শুধু পরীক্ষার ফলাফলের চাপ দিলে হবে না। তাদের মানসিক অবস্থা, বন্ধু-বান্ধব এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবার থেকেই একজন শিশুর চরিত্র গড়ে ওঠে। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে তারা সহজেই নিজেদের সমস্যা পরিবারকে জানাতে পারবে এবং ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

শেষে মন্ত্রী বলেন, দেশ শুধু বর্তমান প্রজন্মের নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও। তাই এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে তরুণরা মাদকমুক্ত, সুস্থ ও মানবিক পরিবেশে বড় হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সব দল বলতে কি আওয়ামী লীগকেও বোঝানো হয়েছে? প্রশ্ন তুললেন সারজিস আলম

নেশায় নষ্ট হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম: জ্বালানিমন্ত্রী টুকু

Update Time : ১০:১৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মাদকাসক্তির কারণে দেশের একটি পুরো প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে হলে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের বড় একটি অংশ অবসাদ, হতাশা এবং খারাপ সঙ্গের কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পরিবার ও সমাজ যদি সময়মতো তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তাহলে অনেকেই এই ভয়াবহতা থেকে ফিরে আসতে পারবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর সুস্থ থাকে, মন ভালো থাকে এবং তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “একটা জেনারেশন নেশার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো নতুন প্রজন্মকে সেই ভুল পথ থেকে দূরে রাখা। তাদের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে।”

আরও পড়ুন  সামাজিক অবক্ষয়ে বাড়ছে নৃশংসতা, উদ্বেগে সমাজ ও পরিবার

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত সময় থাকা উচিত। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত মাঠে যেতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, তিনি জেলা প্রশাসককে প্রতিটি শ্রেণিতে সপ্তাহে অন্তত দুই ঘণ্টার গেমস ক্লাস চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবলসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শহরাঞ্চলে বড় বড় বহুতল ভবন নির্মাণ হলেও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ রাখা হচ্ছে না। ফলে শিশুরা মোবাইল ফোন ও ভার্চ্যুয়াল জগতে বেশি সময় কাটাচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মন্ত্রী বলেন, আগে মহল্লা কিংবা গ্রামের খোলা মাঠে শিশু-কিশোরেরা বিকেলে খেলাধুলা করত। এখন সেই সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। মাঠ কমে যাওয়ায় তরুণদের অবসর সময় কাটানোর সুস্থ মাধ্যমও কমে গেছে।

তিনি মনে করেন, খেলাধুলার সুযোগ বাড়লে তরুণরা আড্ডা বা খারাপ সঙ্গের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর কাজে যুক্ত থাকবে। এতে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও মাদকাসক্তি কমে আসবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে সফল হতে হলে শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তাও প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  লক্ষ্মীপুরে ইটভাটায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

তিনি বলেন, শিক্ষা এমন একটি সম্পদ যা কখনো হারিয়ে যায় না। অর্থ-সম্পদ হারাতে পারে, কিন্তু শিক্ষা একজন মানুষকে সারাজীবন পথ দেখায়। তাই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তাঁর দাদা ছিলেন একজন কৃষিজীবী মানুষ। কিন্তু শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেই তিনি ১৯২৪ সালে নিজের ছেলেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তখন সিরাজগঞ্জে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুব সীমিত ছিল। ম্যাট্রিক পাস করার পর শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে পড়তে হতো। সীমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁর পরিবার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষও যদি শিক্ষার স্বপ্ন দেখতে পারে, তাহলে বর্তমান প্রজন্মের সামনে আরও বড় সুযোগ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি শুধু পরীক্ষার ফলাফলের চাপ দিলে হবে না। তাদের মানসিক অবস্থা, বন্ধু-বান্ধব এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজ রাখতে হবে।

আরও পড়ুন  হাম প্রতিরোধে টিকাদান জোরদার, দ্রুত শতভাগ শিশুকে আওতায় আনার আশ্বাস

তিনি বলেন, পরিবার থেকেই একজন শিশুর চরিত্র গড়ে ওঠে। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে তারা সহজেই নিজেদের সমস্যা পরিবারকে জানাতে পারবে এবং ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

শেষে মন্ত্রী বলেন, দেশ শুধু বর্তমান প্রজন্মের নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও। তাই এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে তরুণরা মাদকমুক্ত, সুস্থ ও মানবিক পরিবেশে বড় হতে পারে।