ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo AI দুনিয়ায় নতুন চমক; মানুষের মতোই চিন্তা করতে পারবে ‘ChatGPT-5’! Logo চীনের জুন: যখন দেশজুড়ে শুরু হয় গ্র্যাজুয়েশন উৎসব Logo বিচারকের দায়িত্বটা ততটা সহজ নয়: মোশাররফ করিম Logo ফোন নিরাপত্তা টিপস: কার্যকর উপায়ে হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন Logo জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ কূটনৈতিক ঘোষণা Logo নেইমারের ফিটনেস আপডেট নিয়ে আনচেলত্তির অবিশ্বাস্য ও বিস্ফোরক ঘোষণা Logo ৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে ভারত Logo মমতার হুঙ্কার: আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে, বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা Logo জ্ঞানচর্চার নতুন প্ল্যাটফর্ম আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট Logo ‘জন নায়াগন’ সেন্সর আপডেট: চাঞ্চল্যকর ভুয়া সার্টিফিকেটের সত্য জানুন

ফোন নিরাপত্তা টিপস: কার্যকর উপায়ে হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন

স্মার্টফোন নিরাপদ রাখতে সচেতন হওয়া জরুরি।

ফোন নিরাপত্তা টিপস এখন প্রতিটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে একটি ফোনেই সংরক্ষিত থাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বিভিন্ন পাসওয়ার্ড। তাই সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির কারণ হতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ হ্যাকিংয়ের ঘটনা জটিল প্রযুক্তির কারণে নয়, বরং ব্যবহারকারীর অসাবধানতার সুযোগ নিয়েই ঘটে।

ফোন সুরক্ষার প্রথম ধাপ হলো শক্তিশালী লক স্ক্রিন ব্যবহার করা। অনেকেই এখনও সহজ চার অঙ্কের পিন ব্যবহার করেন, যা অনুমান করা তুলনামূলক সহজ। নিরাপত্তা বাড়াতে অন্তত ছয় অঙ্কের পিন বা শক্তিশালী অ্যালফানিউমেরিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলকের মতো বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা চালু রাখলে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি আরও কমে যায়।

শুধু পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখাও জরুরি। এতে কেউ পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও দ্বিতীয় ধাপের যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশেষ করে ব্যাংকিং অ্যাপ, ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সুবিধা সক্রিয় রাখা উচিত। এসএমএসের পরিবর্তে অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করলে নিরাপত্তা আরও বাড়ে।

সফটওয়্যার আপডেটকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ প্রতিটি আপডেটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ত্রুটি ঠিক করার ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপ ব্যবহার করলে সাইবার অপরাধীরা সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তাই ফোন এবং অ্যাপ দুটিরই নিয়মিত আপডেট নিশ্চিত করা উচিত। সম্ভব হলে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখুন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর বা ক্যাফের ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার সুবিধাজনক হলেও এসব নেটওয়ার্ক সব সময় নিরাপদ নয়। পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় ব্যাংকিং লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকুন। নিয়মিত এমন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হলে একটি নির্ভরযোগ্য VPN ব্যবহার করলে তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

এছাড়া অচেনা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্তমানে ফিশিং বার্তাগুলো এতটাই বিশ্বাসযোগ্যভাবে তৈরি করা হয় যে অনেকেই সহজেই প্রতারণার শিকার হন। ব্যাংক, কুরিয়ার বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে আসা যেকোনো লিংকে ক্লিক করার আগে অবশ্যই প্রেরকের পরিচয় যাচাই করুন। একই সঙ্গে শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ইনস্টল করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অনুমতি বাতিল এবং ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্যের ব্যাকআপ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। সামান্য সচেতনতা আপনার স্মার্টফোন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্যকে বড় ধরনের সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


 

জনপ্রিয় সংবাদ

AI দুনিয়ায় নতুন চমক; মানুষের মতোই চিন্তা করতে পারবে ‘ChatGPT-5’!

ফোন নিরাপত্তা টিপস: কার্যকর উপায়ে হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন

Update Time : ১১:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ফোন নিরাপত্তা টিপস এখন প্রতিটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে একটি ফোনেই সংরক্ষিত থাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বিভিন্ন পাসওয়ার্ড। তাই সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির কারণ হতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ হ্যাকিংয়ের ঘটনা জটিল প্রযুক্তির কারণে নয়, বরং ব্যবহারকারীর অসাবধানতার সুযোগ নিয়েই ঘটে।

ফোন সুরক্ষার প্রথম ধাপ হলো শক্তিশালী লক স্ক্রিন ব্যবহার করা। অনেকেই এখনও সহজ চার অঙ্কের পিন ব্যবহার করেন, যা অনুমান করা তুলনামূলক সহজ। নিরাপত্তা বাড়াতে অন্তত ছয় অঙ্কের পিন বা শক্তিশালী অ্যালফানিউমেরিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলকের মতো বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা চালু রাখলে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি আরও কমে যায়।

আরও পড়ুন  ৭০৭ মামলার ভার্চুয়াল শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

শুধু পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখাও জরুরি। এতে কেউ পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও দ্বিতীয় ধাপের যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশেষ করে ব্যাংকিং অ্যাপ, ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সুবিধা সক্রিয় রাখা উচিত। এসএমএসের পরিবর্তে অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করলে নিরাপত্তা আরও বাড়ে।

সফটওয়্যার আপডেটকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ প্রতিটি আপডেটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ত্রুটি ঠিক করার ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপ ব্যবহার করলে সাইবার অপরাধীরা সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তাই ফোন এবং অ্যাপ দুটিরই নিয়মিত আপডেট নিশ্চিত করা উচিত। সম্ভব হলে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখুন।

আরও পড়ুন  রাশিয়ার ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তাব দিল রোসাটম, বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর বা ক্যাফের ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার সুবিধাজনক হলেও এসব নেটওয়ার্ক সব সময় নিরাপদ নয়। পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় ব্যাংকিং লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকুন। নিয়মিত এমন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হলে একটি নির্ভরযোগ্য VPN ব্যবহার করলে তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

এছাড়া অচেনা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্তমানে ফিশিং বার্তাগুলো এতটাই বিশ্বাসযোগ্যভাবে তৈরি করা হয় যে অনেকেই সহজেই প্রতারণার শিকার হন। ব্যাংক, কুরিয়ার বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে আসা যেকোনো লিংকে ক্লিক করার আগে অবশ্যই প্রেরকের পরিচয় যাচাই করুন। একই সঙ্গে শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ইনস্টল করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন  পোস্ট করার সঠিক সময়: ভিউ বাড়ানোর কার্যকর কৌশল

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অনুমতি বাতিল এবং ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্যের ব্যাকআপ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। সামান্য সচেতনতা আপনার স্মার্টফোন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্যকে বড় ধরনের সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।