বজ্রপাত প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণ এখন শুধু একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ সাকিবুর রহমান সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বজ্রপাতে প্রাণ হারানো সেই শিক্ষার্থীর স্মৃতিকে ধারণ করেই সাকিব শুরু করেন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গাছ বন্ধু নেটওয়ার্ক’, যার মূল লক্ষ্য বজ্রপাত প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন এই তরুণ। সম্প্রতি নড়াইল থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথজুড়ে বীজ ছিটানোর একটি বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন তিনি। যাত্রাপথে রেললাইনের দুই পাশে প্রায় ২০ হাজার খেজুরের বীজ এবং ১ হাজার কাঁঠালের বীজ ছড়িয়ে দেন, যা ভবিষ্যতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাকিবের ভাষ্য, প্রিয় একজন মানুষের মৃত্যু তাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। সেই থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন এমন কিছু করবেন, যা ভবিষ্যতে বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তার বিশ্বাস, বড় আকারের বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০০টি তালগাছ রোপণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি খোলা জায়গাগুলোতে বটগাছের বীজও রোপণ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আরও অন্তত ১০ হাজার তালবীজ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এসব কার্যক্রমে ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছেন স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীরাও।
পরিবেশবিদদের মতে, তাল, খেজুর ও বটগাছের মতো দীর্ঘজীবী বৃক্ষ পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এসব গাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি তাই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বজ্রপাত প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণ নিয়ে সাকিবের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করেছে।
























