স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষ নয়—এমন দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত কোনো ধরনের আপোষ করবে না এবং জাতীয় ইস্যুতে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও অটল থাকবে।
রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দাবি করেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের শীর্ষ নেতারা আপোষ না করে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার, জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা পিছপা হবেন না। প্রয়োজনে সংসদের বাইরে রাজপথেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভালো নির্বাচন মানেই ভালো শাসন নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, অতীতে অনুষ্ঠিত কিছু নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে তারা কিছু সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা বা সংঘাত তৈরি না হয়।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সীমান্তে উত্তেজনা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই জাতীয় ঐক্য ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মতো মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। করদাতার সংখ্যা ও কর ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
ইন্টারপোলের মাধ্যমে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্জন হলেও বিষয়টি সরকারিভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা নয়, বরং মধ্যমপন্থা অনুসরণ করবে। তবে জনগণের রায় বাস্তবায়নে বাধা এলে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
























