ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আঙুর খেলে শরীরে কী কী উপকার মিলতে পারে? Logo হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখতে প্রতিদিনের খাবারে কী রাখবেন? Logo শরীরে ম্যাগনেশিয়াম কমছে বুঝবেন যেসব লক্ষণে Logo মাত্র ৪ উপকরণেই কীভাবে বানাবেন নরম ও মজার ভাপা দই Logo এআই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা, যা বললেন Logo চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ এর ব্যক্তিগত সচিব (রাজনৈতিক) হলেন মোহাম্মদ আকতার উদ্দীন Logo চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ এর প্রেস সচিব হলেন মনজুর মুহাম্মদ Logo মেসি: ব্যালন ডি’অর নিয়ে সিমিওনের চমকপ্রদ পছন্দ Logo অস্ট্রেলিয়া দল: ডোনাল্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ Logo ইইউতে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব!

মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল? বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক

মেসির এই ট্যাকল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার তার একটি ফাউল ঘিরেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে করা সেই ট্যাকলের জন্য মেসিকে কি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল?

আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেই নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করেন মেসি। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনও দারুণভাবে শুরু করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ম্যাচের একটি ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৩১তম মিনিটে। সে সময় আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দি বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। পেছন থেকে এসে মেসি একটি ট্যাকল করেন, যা গিয়ে লাগে মান্দির ডান পায়ের কাফ ও অ্যাকিলিস টেন্ডনের অংশে।

ট্যাকলের পরপরই ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আলজেরিয়ান অধিনায়ক। তবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেননি। তিনি শুধু ফাউলই দেননি, এমনকি মেসিকে কোনো ধরনের কার্ডও দেখাননি।

এই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় বিতর্ক। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে, এটি সাধারণ ফাউল ছিল না। বরং পেছন থেকে করা বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে মেসিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল।

ইএসপিএনের বিশ্লেষক এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক ফুটবলার আলেহান্দ্রো মরেনো বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এটি শতভাগ লাল কার্ডের মতো ঘটনা ছিল এবং রেফারির সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ।

মরেনো বলেন, সরাসরি দেখলেও এটি স্পষ্ট ফাউল বলে মনে হয়েছে। রিপ্লে দেখার পর তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, ঘটনাটি ভিএআরের মাধ্যমে পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই সুযোগই তৈরি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির হস্তক্ষেপ করার কথা ছিল। সাইমন মার্চিনিয়াককে মনিটরের কাছে ডেকে রিপ্লে দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

মরেনোর ভাষায়, কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের পায়ের কাফ ও গোড়ালির অংশে এভাবে বুট চালিয়ে দেন, তাহলে তাকে মাঠে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হলেও নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই অনুষ্ঠানে নিজের মতামত দেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার নেদুম ওনুওহা। তিনিও মনে করেন, ঘটনাটি সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল এবং ম্যাচ অফিসিয়ালরা সেটি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ওনুওহা বলেন, ট্যাকলের পর মেসির শরীরী ভাষাতেই বোঝা যাচ্ছিল তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সম্ভবত তিনিও বুঝতে পেরেছিলেন যে ঘটনাটি তাকে বড় সমস্যায় ফেলতে পারত।

তার মতে, মাঠের রেফারি ঘটনাটি পুরোপুরি দেখতে না-ও পেতে পারেন। কিন্তু ভিএআর রুমে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ছিল ঘটনাটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে রিভিউয়ের পরামর্শ দেওয়া।

বিশ্ব ফুটবলে ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে আগেও বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক সময় প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বদলানো হয়নি, যা সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মেসির ঘটনাটিও সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে। কারণ, এক পক্ষ বলছে এটি নিছক একটি দেরিতে করা ট্যাকল ছিল, অন্য পক্ষের দাবি এটি ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই বিতর্ক মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের আলো কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি এখন তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে নতুন এক বিতর্কের অধ্যায়।

আগামী কয়েকদিন এই আলোচনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচের আগে মেসির ওই ট্যাকল এবং ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা চলতেই থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুর খেলে শরীরে কী কী উপকার মিলতে পারে?

মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল? বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক

Update Time : ০৪:১৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার তার একটি ফাউল ঘিরেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে করা সেই ট্যাকলের জন্য মেসিকে কি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল?

আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেই নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করেন মেসি। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনও দারুণভাবে শুরু করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ম্যাচের একটি ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৩১তম মিনিটে। সে সময় আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দি বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। পেছন থেকে এসে মেসি একটি ট্যাকল করেন, যা গিয়ে লাগে মান্দির ডান পায়ের কাফ ও অ্যাকিলিস টেন্ডনের অংশে।

ট্যাকলের পরপরই ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আলজেরিয়ান অধিনায়ক। তবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেননি। তিনি শুধু ফাউলই দেননি, এমনকি মেসিকে কোনো ধরনের কার্ডও দেখাননি।

আরও পড়ুন  এমবাপ্পে ব্যালন ডি’অর জয়ের আশায়, এবারই সোনার মুকুট?

এই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় বিতর্ক। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে, এটি সাধারণ ফাউল ছিল না। বরং পেছন থেকে করা বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে মেসিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল।

ইএসপিএনের বিশ্লেষক এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক ফুটবলার আলেহান্দ্রো মরেনো বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এটি শতভাগ লাল কার্ডের মতো ঘটনা ছিল এবং রেফারির সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ।

মরেনো বলেন, সরাসরি দেখলেও এটি স্পষ্ট ফাউল বলে মনে হয়েছে। রিপ্লে দেখার পর তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, ঘটনাটি ভিএআরের মাধ্যমে পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই সুযোগই তৈরি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির হস্তক্ষেপ করার কথা ছিল। সাইমন মার্চিনিয়াককে মনিটরের কাছে ডেকে রিপ্লে দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন  বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো এনএসসি, নতুন কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

মরেনোর ভাষায়, কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের পায়ের কাফ ও গোড়ালির অংশে এভাবে বুট চালিয়ে দেন, তাহলে তাকে মাঠে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হলেও নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই অনুষ্ঠানে নিজের মতামত দেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার নেদুম ওনুওহা। তিনিও মনে করেন, ঘটনাটি সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল এবং ম্যাচ অফিসিয়ালরা সেটি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ওনুওহা বলেন, ট্যাকলের পর মেসির শরীরী ভাষাতেই বোঝা যাচ্ছিল তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সম্ভবত তিনিও বুঝতে পেরেছিলেন যে ঘটনাটি তাকে বড় সমস্যায় ফেলতে পারত।

তার মতে, মাঠের রেফারি ঘটনাটি পুরোপুরি দেখতে না-ও পেতে পারেন। কিন্তু ভিএআর রুমে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ছিল ঘটনাটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে রিভিউয়ের পরামর্শ দেওয়া।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনার দুই ছক, স্কালোনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে কোন কৌশল বেছে নেবেন?

বিশ্ব ফুটবলে ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে আগেও বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক সময় প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বদলানো হয়নি, যা সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মেসির ঘটনাটিও সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে। কারণ, এক পক্ষ বলছে এটি নিছক একটি দেরিতে করা ট্যাকল ছিল, অন্য পক্ষের দাবি এটি ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই বিতর্ক মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের আলো কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি এখন তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে নতুন এক বিতর্কের অধ্যায়।

আগামী কয়েকদিন এই আলোচনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচের আগে মেসির ওই ট্যাকল এবং ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা চলতেই থাকবে।