ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত Logo কৃতি শ্যাননের রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। Logo হার্ট অ্যাটাক এড়াতে কোলেস্টেরলের চেয়েও জরুরি যা Logo ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে মনে হয় ক্রাইম প্যাট্রল দেখতেছি! Logo ‘মির্জাপুর’-এর জরিনা হয়ে কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনংশার? Logo একরামুল হত্যা মামলায় বদি ও তিন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার Logo ফিরছে ‘কফি উইথ করণ ৯’দীপাবলিতে,কফি কাউচে একা সালমান খান! Logo ফ্যাশন-ব্যবসা থেকে আইনি লড়াই, ব্লেক লাইভলির অন্য গল্প Logo রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা, বদলে গেছে রাখাইনের বাস্তবতা Logo বিশ্বাস, সন্দেহ আর প্রতারণার খেলায় দ্য ট্রেইটর্স ২ এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

কাবার গিলাফের নকশা: ইসলামী শিল্পের অসাধারণ সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য

কাবার গিলাফের নকশার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

কাবার গিলাফের নকশার  ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পবিত্র কাবাঘর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে সম্মানিত স্থান, আর এর গায়ে আবৃত কালো কাপড় বা ‘কিসওয়াহ’ মুসলমানদের কাছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই গিলাফ শুধু কাবাঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেনি, বরং ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ইসলাম-পূর্ব যুগেও কাবাঘরকে বিশেষ কাপড় দিয়ে আবৃত করার প্রচলন ছিল। আরবের বিভিন্ন গোত্র নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাবার জন্য কাপড় দান করত। তবে কাবার গিলাফের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ইসলামের আবির্ভাবের পর। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে কাবাঘরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে গিলাফ ব্যবহারের ঐতিহ্য অব্যাহত রাখা হয়।

খুলাফায়ে রাশেদিনের সময়েও কাবার গিলাফ পরিবর্তনের রীতি চালু ছিল। সে সময় ইয়েমেনি কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের বস্ত্র দিয়ে কাবাঘর আবৃত করা হতো। পরবর্তীতে উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের শাসকরা কাবার গিলাফ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তারা উন্নত মানের কাপড় ব্যবহার করার পাশাপাশি গিলাফের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাবার গিলাফের রঙেও পরিবর্তন এসেছে। ইতিহাসে সাদা, লাল, সবুজসহ বিভিন্ন রঙের গিলাফ ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে আব্বাসীয় আমলে কালো রঙের গিলাফ জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ধীরে ধীরে এটি স্থায়ী রূপ পায়। বর্তমানে কাবাঘরের গায়ে যে কালো গিলাফ দেখা যায়, সেটি সেই ঐতিহাসিক ধারারই অংশ।

মামলুক ও উসমানীয় যুগে কাবার গিলাফ নির্মাণ একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পরিণত হয়। বিশেষ করে মিসরের শাসকরা বহু বছর ধরে কাবার গিলাফ তৈরির দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি বছর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে মিসর থেকে মক্কায় নতুন গিলাফ পাঠানো হতো। এই প্রথা দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আধুনিক যুগে সৌদি আরব কাবার গিলাফ তৈরির দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে মক্কায় অবস্থিত বিশেষ কারখানায় দক্ষ কারিগরদের তত্ত্বাবধানে কিসওয়াহ তৈরি করা হয়। উচ্চমানের প্রাকৃতিক রেশম, সোনা ও রুপার প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে গিলাফের ওপর পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ইসলামী বাণী সূচিকর্ম করা হয়। প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ অনুসরণ করা হয় যাতে গিলাফের সৌন্দর্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।

প্রতি বছর ইসলামী ক্যালেন্ডারের ১ মহররমে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। নতুন গিলাফ স্থাপনের এই প্রক্রিয়া মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন ঘটনা। পুরোনো গিলাফের অংশবিশেষ সংরক্ষণ করা হয় এবং কখনো কখনো বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা, জাদুঘর বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাছে উপহার হিসেবেও প্রদান করা হয়।

কাবার গিলাফের ইতিহাস কেবল একটি কাপড়ের ইতিহাস নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর বিশ্বাস, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও ধর্মীয় আবেগের ইতিহাস। যুগে যুগে শাসক, কারিগর ও মুসলমানদের ভালোবাসায় সমৃদ্ধ এই ঐতিহ্য আজও ইসলামের অন্যতম গৌরবময় নিদর্শন হিসেবে বিশ্বজুড়ে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত

কাবার গিলাফের নকশা: ইসলামী শিল্পের অসাধারণ সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য

Update Time : ১১:০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কাবার গিলাফের নকশার  ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পবিত্র কাবাঘর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে সম্মানিত স্থান, আর এর গায়ে আবৃত কালো কাপড় বা ‘কিসওয়াহ’ মুসলমানদের কাছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই গিলাফ শুধু কাবাঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেনি, বরং ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ইসলাম-পূর্ব যুগেও কাবাঘরকে বিশেষ কাপড় দিয়ে আবৃত করার প্রচলন ছিল। আরবের বিভিন্ন গোত্র নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাবার জন্য কাপড় দান করত। তবে কাবার গিলাফের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ইসলামের আবির্ভাবের পর। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে কাবাঘরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে গিলাফ ব্যবহারের ঐতিহ্য অব্যাহত রাখা হয়।

আরও পড়ুন  আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস

খুলাফায়ে রাশেদিনের সময়েও কাবার গিলাফ পরিবর্তনের রীতি চালু ছিল। সে সময় ইয়েমেনি কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের বস্ত্র দিয়ে কাবাঘর আবৃত করা হতো। পরবর্তীতে উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের শাসকরা কাবার গিলাফ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তারা উন্নত মানের কাপড় ব্যবহার করার পাশাপাশি গিলাফের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাবার গিলাফের রঙেও পরিবর্তন এসেছে। ইতিহাসে সাদা, লাল, সবুজসহ বিভিন্ন রঙের গিলাফ ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে আব্বাসীয় আমলে কালো রঙের গিলাফ জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ধীরে ধীরে এটি স্থায়ী রূপ পায়। বর্তমানে কাবাঘরের গায়ে যে কালো গিলাফ দেখা যায়, সেটি সেই ঐতিহাসিক ধারারই অংশ।

আরও পড়ুন  তাজা নাকি হিমায়িত ফল-সবজি, কোনটিতে বেশি পুষ্টিগুণ?

মামলুক ও উসমানীয় যুগে কাবার গিলাফ নির্মাণ একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পরিণত হয়। বিশেষ করে মিসরের শাসকরা বহু বছর ধরে কাবার গিলাফ তৈরির দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি বছর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে মিসর থেকে মক্কায় নতুন গিলাফ পাঠানো হতো। এই প্রথা দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আধুনিক যুগে সৌদি আরব কাবার গিলাফ তৈরির দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে মক্কায় অবস্থিত বিশেষ কারখানায় দক্ষ কারিগরদের তত্ত্বাবধানে কিসওয়াহ তৈরি করা হয়। উচ্চমানের প্রাকৃতিক রেশম, সোনা ও রুপার প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে গিলাফের ওপর পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ইসলামী বাণী সূচিকর্ম করা হয়। প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ অনুসরণ করা হয় যাতে গিলাফের সৌন্দর্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।

আরও পড়ুন  ২ টাকার স্বাস্থ্যসেবা ফের চালুর উদ্যোগ চাঁদপুরে

প্রতি বছর ইসলামী ক্যালেন্ডারের ১ মহররমে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। নতুন গিলাফ স্থাপনের এই প্রক্রিয়া মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন ঘটনা। পুরোনো গিলাফের অংশবিশেষ সংরক্ষণ করা হয় এবং কখনো কখনো বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা, জাদুঘর বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাছে উপহার হিসেবেও প্রদান করা হয়।

কাবার গিলাফের ইতিহাস কেবল একটি কাপড়ের ইতিহাস নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর বিশ্বাস, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও ধর্মীয় আবেগের ইতিহাস। যুগে যুগে শাসক, কারিগর ও মুসলমানদের ভালোবাসায় সমৃদ্ধ এই ঐতিহ্য আজও ইসলামের অন্যতম গৌরবময় নিদর্শন হিসেবে বিশ্বজুড়ে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।