কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে একটি আধুনিক ও কার্যকর অঙ্গদান এবং কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
শনিবার ঢাকার মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স অন লাইভ অ্যান্ড ডিসিজড ডোনার কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর পর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত তার কিডনি প্রতিস্থাপনের উপযোগী থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থাপনায় কিডনি সংগ্রহ ও প্রতিস্থাপন করা গেলে অনেক কিডনি রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব। এজন্য অঙ্গদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে দক্ষ ট্রান্সপ্ল্যান্ট কো-অর্ডিনেটর তৈরি করা গেলে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি লাইভ ও ডিসিজড ডোনার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বিষয়ে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হলে হাজারো কিডনি রোগী উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশে অঙ্গদানের সংস্কৃতি বিকাশ, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কিডনি চিকিৎসার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা নেফ্রোলজিস্ট, ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা কিডনি প্রতিস্থাপন, অঙ্গদান এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।



























