বন্যার পূর্বাভাস আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধার নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসামে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নদ-নদীর পানির প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আগামী কয়েক দিন ধরে বাড়তে থাকবে বলে জানিয়েছে পাউবো। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে নদীটি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত অধিকাংশ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবে পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্রহ্মপুত্রের পানি বেশি থাকলে অন্যান্য নদীর পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ে।
পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজও চলছে।
সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার মজুত এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব বাংলাদেশে দ্রুত পড়তে পারে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি পূর্বাভাস অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিত নদীর পানির অবস্থার খবর রাখা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



























