ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস Logo সবুজ স্বর্গ নরওয়ে কেন বিদেশি বর্জ্য কিনে আনে? Logo মসুর ডালের সালাদ: প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ও সহজ রেসিপি Logo স্যামসাংয়ের নজিরের পর বাড়তি বোনাস দাবি, উত্তাল দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষে আবারও সিঙ্গাপুর Logo এক রাতেই কাটা ২৯৬টি আমগাছ, গ্রেফতার ইউপি সদস্য Logo চুল পাকার আসল কারণ কী? জানুন প্রতিরোধের উপায় Logo কৃষকের ছদ্মবেশে মাঠে কাজ করছিলেন, ৮ বছর পর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার Logo জ্বালানি তেলের সংকট: নীলফামারীতে গুজবে পাম্পে বেড়েছে হঠাৎ ভিড় Logo ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের সংকট: নীলফামারীতে গুজবে পাম্পে বেড়েছে হঠাৎ ভিড়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৫৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৫

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমিত পরিমাণ তেল বিক্রি করছে একটি ফিলিং স্টেশন। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রভাবে নীলফামারীতে হঠাৎ করেই পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর ফলে জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সাময়িকভাবে শেষ হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি সরবরাহ সংকট নয়; বরং গুজবের কারণে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং রোববার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

শনিবার সকালে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মোটরসাইকেলচালক তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরছেন। জেলা শহরের রশিদা ফিলিং স্টেশনে কর্মচারীরা জানান, পেট্রল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেলচালকেরা অল্প পরিমাণ তেল চাইলেও তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হওয়া অনেকেই মাঝপথে বিপাকে পড়েছেন। এমন একজন চালক জানান, গুজবে বিশ্বাস না করলেও পথে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে অন্য একজনের সহায়তায় বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকেই পেট্রল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। আগে যেখানে অনেকে ৫০ বা ১০০ টাকার তেল কিনতেন, সেখানে গুজবের পর একই ব্যক্তি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার তেল কিনতে শুরু করেন। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কয়েকটি পাম্পে নির্ধারিত সময়ের আগেই পেট্রল ও অকটেন ফুরিয়ে যায়। কোনো কোনো পাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল বিক্রি করেছে।

এদিকে জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক চালক এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। তবে কিছু পাম্প জানিয়েছে, ডিপো থেকে নতুন চালান আসার পর শনিবার বিকেল থেকেই সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে জ্বালানি তেলের প্রকৃত সংকট নেই; অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই সাময়িকভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় কয়েকজন মালিক সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চালান আনতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। যেসব পাম্প আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল, তারা শনিবারই নতুন তেল পেয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, রোববার থেকে জেলার সব পাম্পে পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে বিশ্বাস করলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে সাময়িক সংকট তৈরি হতে পারে। তাই গুজব এড়িয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস

জ্বালানি তেলের সংকট: নীলফামারীতে গুজবে পাম্পে বেড়েছে হঠাৎ ভিড়

Update Time : ১০:৫৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রভাবে নীলফামারীতে হঠাৎ করেই পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর ফলে জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সাময়িকভাবে শেষ হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি সরবরাহ সংকট নয়; বরং গুজবের কারণে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং রোববার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

শনিবার সকালে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মোটরসাইকেলচালক তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরছেন। জেলা শহরের রশিদা ফিলিং স্টেশনে কর্মচারীরা জানান, পেট্রল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেলচালকেরা অল্প পরিমাণ তেল চাইলেও তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হওয়া অনেকেই মাঝপথে বিপাকে পড়েছেন। এমন একজন চালক জানান, গুজবে বিশ্বাস না করলেও পথে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে অন্য একজনের সহায়তায় বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

আরও পড়ুন  দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকেই পেট্রল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। আগে যেখানে অনেকে ৫০ বা ১০০ টাকার তেল কিনতেন, সেখানে গুজবের পর একই ব্যক্তি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার তেল কিনতে শুরু করেন। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কয়েকটি পাম্পে নির্ধারিত সময়ের আগেই পেট্রল ও অকটেন ফুরিয়ে যায়। কোনো কোনো পাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন  বন্যার পূর্বাভাস: ৫ জেলায় পানি বাড়ার সতর্ক বার্তা

এদিকে জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক চালক এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। তবে কিছু পাম্প জানিয়েছে, ডিপো থেকে নতুন চালান আসার পর শনিবার বিকেল থেকেই সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে জ্বালানি তেলের প্রকৃত সংকট নেই; অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই সাময়িকভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় কয়েকজন মালিক সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চালান আনতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। যেসব পাম্প আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল, তারা শনিবারই নতুন তেল পেয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, রোববার থেকে জেলার সব পাম্পে পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন  পদ্মা রেলসেতু মাটি কাটা বিতর্ক: প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে কাজ বন্ধ

সংশ্লিষ্টদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে বিশ্বাস করলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে সাময়িক সংকট তৈরি হতে পারে। তাই গুজব এড়িয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।