ময়মনসিংহে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বুধবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর (দেওয়ানগঞ্জ) রুটের ট্রেন চলাচল। আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর উদ্ধার কাজে পাঠানো রিলিফ ট্রেনও দুর্ঘটনার শিকার হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান ও মেরামত কাজ শেষে দুপুরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাওয়ার কারের একটি বগি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়।
এতে ময়মনসিংহ-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে কেওয়াটখালী লোকোসেড থেকে একটি রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়। কিন্তু উদ্ধারকারী ট্রেনটি বাঘমারা রেলক্রসিংয়ের কাছে পৌঁছালে সেটিও লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ফলে মূল দুর্ঘটনার পাশাপাশি নতুন করে আরেকটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রিলিফ ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। রেলওয়ে কর্মকর্তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরে হাইড্রোলিক সরঞ্জাম বহনকারী বিশেষ ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান নতুন করে শুরু করা হয়।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন জানান, উদ্ধারকারী ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে লাইনচ্যুত পাওয়ার কার উদ্ধার করে রেললাইন সচল করার কাজ শুরু করা হয়। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, শুধু ট্রেনের বগি উদ্ধার করাই নয়, দুর্ঘটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও কালভার্টও মেরামত করতে হয়েছে। প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন যাতে পুনরায় নিরাপদে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর লাইনচ্যুত পাওয়ার কারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত শেষে দুপুর ২টার দিকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কমিউটার ট্রেন চালানো হয়। সবকিছু স্বাভাবিক পাওয়ার পর রুটটিতে নিয়মিত ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়। রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত পাওয়ার কার উদ্ধার করে স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট ও রেললাইন মেরামতের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলকে সতর্কতামূলকভাবে ‘ডেড ট্র্যাপ জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কী কারণে প্রথমে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হলো এবং পরে উদ্ধারকারী ট্রেনও একই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার তদন্তে রেলওয়ের ট্রাফিক পরিদর্শক মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা এবিএম কামরুজ্জামান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কারিগরি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনায় কয়েক হাজার যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়লেও দ্রুত উদ্ধার ও মেরামত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় একই দিনের মধ্যেই রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। তবে একই দিনে মূল ট্রেন ও উদ্ধারকারী ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।



























