চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে। আর শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫৭ ছাড়িয়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
সোমবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টা থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়ে নতুন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাটিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
মারা যাওয়া নারীর নাম নুরজাহান বেগম (৬০)। তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁকে মৃত অবস্থায় নগরের পার্ক ভিউ হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গুজনিত ‘মাল্টিপল অর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোম’ এবং ‘এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’-এর পাশাপাশি তিনি উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায়ও ভুগছিলেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে জানা গেছে, নতুন আক্রান্ত ২৭ জনের মধ্যে ১৫ জন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ৮ জন ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ২ জন রোগী।
এ ছাড়া একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ জন চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা। অন্যদিকে ১০ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলার এবং একজন অন্য জেলার বাসিন্দা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৭৫৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৭ জন। অর্থাৎ বছরের মোট আক্রান্তের বড় একটি অংশই চলতি মাসে শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফেব্রুয়ারি মাসে। এরপর দ্বিতীয় মৃত্যু হয় ১১ জুলাই। সর্বশেষ নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর মাধ্যমে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা তিনজনে পৌঁছেছে। মৃতদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম নগরের এবং একজন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানুষের সচেতনতাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তিনি সবাইকে বাড়ির ভেতর ও আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার বা বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




























