বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের বহুল প্রতীক্ষিত নকআউট ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন কানাডার অভিজ্ঞ রেফারি ড্রু ফিশার। ফিফা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেছে। আগামী শুক্রবার (৩ জুলাই) মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ফিশারের নিয়োগের পর তার অতীতের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও আবার আলোচনায় এসেছে।
৪৫ বছর বয়সী ড্রু ফিশার ২০১৫ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় রয়েছেন। উত্তর আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল লিগ মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত এমএলএসে ২২৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এই লিগেই নিয়মিত খেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি, ফলে ফিশারের সঙ্গে তার পরিচিতিও কম নয়।
আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা অবশ্য খুব বেশি নয় ফিশারের। এখন পর্যন্ত মাত্র একবার আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার আগে ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তার পরিচালনায় ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল লিওনেল স্ক্যালোনির দল। পরে একই বছর কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে ড্রু ফিশারের ক্যারিয়ারে একটি বিতর্কিত ঘটনাও রয়েছে, যা এখনও অনেকের মনে রয়েছে। ২০২৩ সালের কনকাকাফ নেশন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের ম্যাচে তিনি ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন। সেই ম্যাচে ইনজুরি টাইম প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়ানো হয়। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে মেক্সিকো সমতা ফেরায় এবং পরে টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে।
ম্যাচ শেষে হন্ডুরাস ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ তোলে, ভিএআরের মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক প্রভাব ছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি ড্রু ফিশারকে। তারপরও ঘটনাটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। ফলে বড় ম্যাচে তার দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে অনেক সমর্থকের মধ্যেই নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এই কানাডিয়ান রেফারি। ফ্রান্সের ৩-০ ব্যবধানে ইরাককে হারানো ম্যাচ এবং ক্রোয়েশিয়ার ২-১ গোলে ঘানাকে হারানোর ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দুটি ম্যাচই তিনি বড় কোনো বিতর্ক ছাড়াই শেষ করেন। এবার তার সামনে আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের এই নকআউট ম্যাচে প্রতিটি সিদ্ধান্তই হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী। তাই শুধু দুই দলের ফুটবলারদের দিকেই নয়, নজর থাকবে রেফারি ড্রু ফিশারের প্রতিটি বাঁশি ও সিদ্ধান্তের দিকেও। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বিতর্ক এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারলেই তার অভিজ্ঞতার আরেকটি সফল অধ্যায় যুক্ত হবে ক্যারিয়ারে।


























