ইসলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআই-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব বর্তমান মুসলিম সমাজের প্রতিদিনের ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত সংশোধন, ‘দাওর’ বা হিফজ চর্চা এবং জটিল ধর্মীয় প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর খোঁজার চিরাচরিত পদ্ধতিকে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আমেরিকার হিউস্টনের তরুণ তারিক কাজির ক্যানসারে মৃত মায়ের শূন্যতা পূরণে ‘তারতিল’ অ্যাপের ব্যবহার কিংবা ‘ইউর ইমাম’ ও ‘আনসারি’র মতো ইসলামিক এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে দেড় লক্ষাধিক ধর্মীয় মাসআলার সমাধান পাওয়ার ঘটনা সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে উঠে এসে এক নতুন ডিজিটাল বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে।
তবে ইসলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত জোয়ার একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় ধর্মীয় জ্ঞান এনে দিচ্ছে, ঠিক অন্যদিকে এটি দেড় হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘সিনা-ব-সিনা’ বা যোগ্য আলেমদের ‘সনদ’ ভিত্তিক ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও ফতোয়া দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামোকে এক গভীর দার্শনিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে জিপিটি-৪ও কিংবা শিয়াকেন্দ্রিক উইসকু প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায় ৯৬ শতাংশ নির্ভুল ধর্মীয় উত্তর দেওয়ার দাবি করলেও, তারা অনেক সময় জটিল ফিকহ শাস্ত্রের সঠিক প্রেক্ষাপট ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স বা নিখুঁত উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে মারাত্মকভাবে হোঁচট খাচ্ছে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে এই আধুনিক রূপান্তর আলেমদের হাত থেকে ব্যাখ্যার নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে সম্পূর্ণ পরিকাঠামোগত কর্তৃত্ব বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার অথরিটি সিলিকন ভ্যালির অ্যালগরিদমের হাতে তুলে দিচ্ছে, যার ফলে ইন্টারনেটে কোন ধর্মীয় মতবাদটি সবার সামনে আসবে আর কোনটি চাপা পড়বে তা নির্ধারণ করছে কৃত্রিম চ্যাটবট।





























