জুনের হারের প্রতিশোধ নিয়ে প্রথমবারের মতো আসিয়ান চ্যালেঞ্জ কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হংকং। ঘরের মাঠ কাই তাক মেইন স্টেডিয়ামে কম্বোডিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে স্বাগতিকরা। ৫৫ বছর পর পাওয়া সেই হারের জবাবও এবার শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে দিল হংকং।
ফাইনালের আগে দুই দলের সবশেষ ১৪ দেখায় হংকংয়ের জয় ছিল ৯টি। তিন ম্যাচে ড্র হয়েছিল, আর কম্বোডিয়া জিতেছিল দুইবার। তবে চলতি বছরের জুনে কম্বোডিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে যায় হংকং। সেই হার ছিল ৫৫ বছর পর কম্বোডিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম পরাজয়।
তাই ফাইনালটি শুধু শিরোপা জয়ের লড়াই ছিল না, হংকংয়ের সামনে ছিল পুরোনো সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও। নিজেদের দর্শকদের সামনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ম্যাচের শুরুতেই কম্বোডিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা।
পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে হংকং। সান মিং-হিমের পাস থেকে বল পেয়ে শট নেন ফিলিপ চ্যান সিউ-কোয়ান। তবে তার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোলের সুযোগ নষ্ট হয়। এরপরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে স্বাগতিকরা।
গোলের জন্য অবশ্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি হংকংকে। ৪১ মিনিটে সান মিং-হিমের দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে বল পান ম্যাট অর। ঠান্ডা মাথায় কম্বোডিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় হংকং।
বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল চালিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ৫২ মিনিটে ম্যাট অরের ক্রস থেকে বক্সে বল পান ফিলিপ চ্যান। তাকে কম্বোডিয়ার এক ডিফেন্ডার ফাউল করলেও প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি রেফারি। পরে ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেওয়া হয়।
স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি এভারটন কামার্গো। তার নিখুঁত শটে হংকংয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কম্বোডিয়া। একের পর এক আক্রমণ চালালেও হংকংয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের গোলপোস্ট অক্ষত রাখে হংকং। কম্বোডিয়ার সব আক্রমণ ঠেকিয়ে ক্লিন শিট নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হংকংয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।
এই জয়ের মাধ্যমে আসিয়ান চ্যালেঞ্জ কাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের নাম ইতিহাসে লিখিয়েছে হংকং। একই সঙ্গে জুনের সেই ২-০ গোলের হারও ফিরিয়ে দিয়েছে তারা একই ব্যবধানে জয় দিয়ে। ঘরের মাঠে পাওয়া এই শিরোপা হংকং ফুটবলের জন্য হয়ে থাকল স্মরণীয় এক অর্জন।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন