জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চেয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়ে তাঁরা এ দাবি জানান। অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ সংবিধানের প্রস্তাবনাতেই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। তবে বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, স্বীকৃতির বিষয়টি সংবিধানে রাখার বিষয়ে তারা ইতিবাচক। প্রস্তাবনায় না রেখে তফসিলে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব সামনে এসেছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মিলিয়ে মোট ৬৩ জন অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, দায়মুক্তি এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি। পাশাপাশি আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও ভাতা বাড়ানো এবং তাঁরা যাতে কোনো ধরনের আইনি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সভায় অংশগ্রহণের জন্য ৬৫ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও আমন্ত্রণের বাইরে আরও ১৪ জন উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ায় পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ নির্দিষ্টভাবে সংবিধানের প্রস্তাবনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন। কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের প্রস্তাব লিখিতভাবে নথিভুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিও গুরুত্ব পেয়েছে বৈঠকে। সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি তফসিলে রাখার কথাও জানিয়েছে কমিটি। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের জাতীয় ঘোষণাপত্রে বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ রয়েছে। সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হলে অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ সংবিধানে অবশ্যই আসবে। তবে সেটি সংবিধানের কোন অংশে থাকবে, তা ঘোষণাপত্রে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও কথা হয়েছে। বিশেষ কমিটির সভাপতি জানান, এ ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো ঠিক হয়নি। সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। আইনজীবী, বিচারক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাঁদের প্রস্তাব জানার পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে রাখার পুরোনো বিধান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই ‘অপশন’ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি কীভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে, সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ কমিটি বলছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তবে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জাতীয় সনদে সমঝোতা হয়েছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সেই অবস্থান অনুসরণ করা হবে। এখন শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের দাবিগুলো কতটা এবং কীভাবে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত প্রস্তাবে প্রতিফলিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন