ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চায় আমিরাত, আলোচনায় ভারত

প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ভারতের অত্যাধুনিক ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আকাশতীর’ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা এগোচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ভারতীয় সূত্রগুলোর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে নতুন অস্ত্র সংগ্রহে আগ্রহী হয়েছে আমিরাত। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের তৈরি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি দেশটির আগ্রহ বেড়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মোস ও আকাশতীরসহ ভারতের বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবস্থার বিষয়ে আমিরাত আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে তা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। এর গতি ও নির্ভুলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্রটির চাহিদা বাড়ছে।

অন্যদিকে আকাশতীর একটি স্বয়ংক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেড এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। শত্রুপক্ষের আকাশ হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আমিরাতকে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা প্রশ্নে দেশটি নিজেদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

হরমুজ প্রণালী আমিরাতের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ব্রহ্মোস ও আকাশতীর সেই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়ার মতে, অস্ত্র সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা আমিরাতকে আরও কৌশলগত স্বাধীনতা দেবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের বিদ্যমান সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

তবে আমিরাতের কাছে ব্রহ্মোস বিক্রির আগে রাশিয়ার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। কারণ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারত ও রাশিয়ার যৌথভাবে তৈরি। ভারতীয় সূত্রগুলোর মতে, মস্কো ও আবুধাবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এ অনুমোদন বড় কোনো বাধা হবে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাব্য অস্ত্র চুক্তি শুধু বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে।

গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সংঘাতে প্রথমবারের মতো ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ভারতীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এরই মধ্যে ভারত ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মোস বিক্রির চুক্তি করেছে। এছাড়া থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও চিলিও অস্ত্রটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। এক সময় আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত এখন বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাইমা রহমানকে নিয়ে পোস্ট: কলেজ শিক্ষার্থী আটক, যা জানা গেল

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চায় আমিরাত, আলোচনায় ভারত

Update Time : ০৩:৫৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ভারতের অত্যাধুনিক ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আকাশতীর’ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা এগোচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ভারতীয় সূত্রগুলোর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে নতুন অস্ত্র সংগ্রহে আগ্রহী হয়েছে আমিরাত। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের তৈরি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি দেশটির আগ্রহ বেড়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মোস ও আকাশতীরসহ ভারতের বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবস্থার বিষয়ে আমিরাত আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে তা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। এর গতি ও নির্ভুলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্রটির চাহিদা বাড়ছে।

আরও পড়ুন  খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান পিছিয়েছে, নতুন সময়সূচি ঘোষণা তেহরানের

অন্যদিকে আকাশতীর একটি স্বয়ংক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেড এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। শত্রুপক্ষের আকাশ হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আমিরাতকে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা প্রশ্নে দেশটি নিজেদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

হরমুজ প্রণালী আমিরাতের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ব্রহ্মোস ও আকাশতীর সেই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়ার মতে, অস্ত্র সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা আমিরাতকে আরও কৌশলগত স্বাধীনতা দেবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের বিদ্যমান সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

আরও পড়ুন  ইরানের প্রথম রাডার স্যাটেলাইট উদ্বোধন শিগগির, মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন অগ্রগতি

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

তবে আমিরাতের কাছে ব্রহ্মোস বিক্রির আগে রাশিয়ার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। কারণ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারত ও রাশিয়ার যৌথভাবে তৈরি। ভারতীয় সূত্রগুলোর মতে, মস্কো ও আবুধাবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এ অনুমোদন বড় কোনো বাধা হবে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাব্য অস্ত্র চুক্তি শুধু বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় নারীদের হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কঠোর রায়

গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সংঘাতে প্রথমবারের মতো ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ভারতীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এরই মধ্যে ভারত ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মোস বিক্রির চুক্তি করেছে। এছাড়া থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও চিলিও অস্ত্রটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। এক সময় আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত এখন বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।