ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া: চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁসের অপেক্ষায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৫

রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিচতলায় বসানো আসবাবপত্রের স্টল। ছবি: সংগৃহীত।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া নিয়ে রাজশাহীতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রথযাত্রা উপলক্ষে নগরের সাগরপাড়া এলাকায় চলমান মেলায় এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী মহানগর (সদর) মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিচতলা একটি আসবাবপত্রের স্টল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ভবনটি কার অনুমতিতে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁর এক আসবাবপত্র ব্যবসায়ী ভবনের নিচতলায় দোকান সাজিয়ে বিক্রি করছেন। দোকানের দায়িত্বে থাকা বিশ্বনাথ সরকার দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধারাই তাঁদের ভবনটি ব্যবহার করতে দিয়েছেন। তবে এই ব্যবহারের পেছনে কোনো লিখিত অনুমতি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রথযাত্রার মেলায় সড়কের পাশে ছোট একটি স্টল বসাতেও ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়েছে। অথচ প্রায় ২ হাজার ২১৬ বর্গফুট আয়তনের সরকারি এই ভবনটি যদি বিনা ভাড়ায় ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি স্বাভাবিক নয়। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং সদস্যসচিব সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক। এছাড়া কমিটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তবে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, ভবনটি ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কোনো অর্থও পাননি।

অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল সালেহ মো. নূর-ঈ-সাইদও জানিয়েছেন, ভবনটি কে ব্যবহার করতে দিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো তথ্য নেই। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিরা খাতুনও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি ঘটনাটি সরেজমিনে দেখার আশ্বাস দিলেও মেলার শেষ দিন পর্যন্ত স্টলটি চালু ছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হামলা ও ভাঙচুরের পর থেকে ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সরকারি এই সম্পত্তি কীভাবে মেলার স্টল হিসেবে ব্যবহৃত হলো এবং এর অনুমতি কে দিল—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া: চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁসের অপেক্ষায়

Update Time : ০২:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া নিয়ে রাজশাহীতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রথযাত্রা উপলক্ষে নগরের সাগরপাড়া এলাকায় চলমান মেলায় এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী মহানগর (সদর) মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিচতলা একটি আসবাবপত্রের স্টল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ভবনটি কার অনুমতিতে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁর এক আসবাবপত্র ব্যবসায়ী ভবনের নিচতলায় দোকান সাজিয়ে বিক্রি করছেন। দোকানের দায়িত্বে থাকা বিশ্বনাথ সরকার দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধারাই তাঁদের ভবনটি ব্যবহার করতে দিয়েছেন। তবে এই ব্যবহারের পেছনে কোনো লিখিত অনুমতি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  রাজশাহীর যেসব এলাকায় শনিবার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

স্থানীয়দের অভিযোগ, রথযাত্রার মেলায় সড়কের পাশে ছোট একটি স্টল বসাতেও ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়েছে। অথচ প্রায় ২ হাজার ২১৬ বর্গফুট আয়তনের সরকারি এই ভবনটি যদি বিনা ভাড়ায় ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি স্বাভাবিক নয়। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং সদস্যসচিব সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক। এছাড়া কমিটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তবে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, ভবনটি ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কোনো অর্থও পাননি।

আরও পড়ুন  পাবনায় ১টি ক্লাসরুমে ঘটে যাওয়া অবিশ্বাস্য দুর্ঘটনা

অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল সালেহ মো. নূর-ঈ-সাইদও জানিয়েছেন, ভবনটি কে ব্যবহার করতে দিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো তথ্য নেই। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিরা খাতুনও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি ঘটনাটি সরেজমিনে দেখার আশ্বাস দিলেও মেলার শেষ দিন পর্যন্ত স্টলটি চালু ছিল।

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হামলা ও ভাঙচুরের পর থেকে ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সরকারি এই সম্পত্তি কীভাবে মেলার স্টল হিসেবে ব্যবহৃত হলো এবং এর অনুমতি কে দিল—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।