ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফুটবল মাঠে চমক দেখালেন জাইমা রহমান, বাঁ পায়ের শটে দারুণ গোল Logo শিশুদের বার্নআউট কী কীভাবে চিনবেন Logo ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে বড় পরিবর্তন: নতুন নিয়মে সহজ হবে আবেদন Logo ৯০ শতাংশ আয় হারিয়ে ট্রাম্পের নীতিকে দুষলেন এমিজয়ী অভিনেত্রী Logo বুলিমিয়া নার্ভোসা: গুরুতর মানসিক রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকি Logo গভীর ঘুমের উপায়: চিকিৎসকের কার্যকর পরামর্শ Logo সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ চসিকের Logo চ্যাপা শুঁটকিতে সবজি ভুনার রেসিপি, ঝাল-মশলাদার স্বাদ Logo বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হবে Logo চিংড়ি লাউশাকের রেসিপি, ঘরোয়া স্বাদের পুষ্টিকর রান্না

সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ চসিকের

সড়ক নিরাপত্তা ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার। ছবি: সংগৃহীত

স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। দীর্ঘদিন ধরে যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে নিয়ম না মানার প্রবণতায় ভোগা দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার করে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রযুক্তিনির্ভর নগর উন্নয়নসংক্রান্ত দুটি বড় প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। সভায় নগরীর বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতি, যানজটের কারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক করিডোরগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ক্যামেরা, সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তি রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের সংখ্যা, গতি এবং যানজটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রাফিক সংকেত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষার সময় কমবে এবং সড়কে চলাচল আরও গতিশীল হবে।

এআইভিত্তিক এই প্রযুক্তি শুধু যানজট কমানোর জন্য নয়, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করা, দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক শহর ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে ডিজিটাল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হবে। এতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে চসিক শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একটি নিরাপদ, আলোকিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যেও আরও একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত আধুনিক এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উন্নত আলোকসজ্জা এবং সিসিটিভি নজরদারির ফলে রাতের বেলায় সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। অপরাধপ্রবণ এলাকা পর্যবেক্ষণ সহজ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে পারবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে ট্রাফিক নির্দেশনা, জরুরি বার্তা এবং নাগরিকসেবাসংক্রান্ত তথ্যও প্রচার করা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হলে শুধু যানজট কমবে না, বরং নগরবাসীর জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে যে সময় ও জ্বালানি অপচয় হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও নগর অর্থনীতির ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সড়কে সঠিক লেন মার্কিং, ট্রাফিক আইল্যান্ড সংস্কার এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এআইভিত্তিক প্রযুক্তি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া ক্যামেরা, ক্যাবল, সেন্সর ও অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামেও একটি আধুনিক ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব। এতে নগরবাসী যেমন উন্নত সেবা পাবেন, তেমনি চট্টগ্রাম একটি সত্যিকারের স্মার্ট সিটির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর এই উদ্যোগকে চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য শহরের জন্যও এটি একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল মাঠে চমক দেখালেন জাইমা রহমান, বাঁ পায়ের শটে দারুণ গোল

সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ চসিকের

Update Time : ১০:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। দীর্ঘদিন ধরে যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে নিয়ম না মানার প্রবণতায় ভোগা দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার করে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রযুক্তিনির্ভর নগর উন্নয়নসংক্রান্ত দুটি বড় প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। সভায় নগরীর বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতি, যানজটের কারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক করিডোরগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ক্যামেরা, সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তি রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের সংখ্যা, গতি এবং যানজটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রাফিক সংকেত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষার সময় কমবে এবং সড়কে চলাচল আরও গতিশীল হবে।

আরও পড়ুন  চ্যাপা শুঁটকিতে সবজি ভুনার রেসিপি, ঝাল-মশলাদার স্বাদ

এআইভিত্তিক এই প্রযুক্তি শুধু যানজট কমানোর জন্য নয়, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করা, দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক শহর ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে ডিজিটাল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হবে। এতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে চসিক শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একটি নিরাপদ, আলোকিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যেও আরও একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত আধুনিক এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন  আরচ্যারি ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে অনাস্থা, হস্তক্ষেপে মন্ত্রণালয়ের তলব

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উন্নত আলোকসজ্জা এবং সিসিটিভি নজরদারির ফলে রাতের বেলায় সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। অপরাধপ্রবণ এলাকা পর্যবেক্ষণ সহজ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে পারবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে ট্রাফিক নির্দেশনা, জরুরি বার্তা এবং নাগরিকসেবাসংক্রান্ত তথ্যও প্রচার করা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হলে শুধু যানজট কমবে না, বরং নগরবাসীর জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে যে সময় ও জ্বালানি অপচয় হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও নগর অর্থনীতির ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সড়কে সঠিক লেন মার্কিং, ট্রাফিক আইল্যান্ড সংস্কার এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এআইভিত্তিক প্রযুক্তি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  যাত্রাবাড়ী ও মুগদা এলাকায় ২৯ জন গ্রেপ্তার

এ ছাড়া ক্যামেরা, ক্যাবল, সেন্সর ও অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামেও একটি আধুনিক ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব। এতে নগরবাসী যেমন উন্নত সেবা পাবেন, তেমনি চট্টগ্রাম একটি সত্যিকারের স্মার্ট সিটির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর এই উদ্যোগকে চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য শহরের জন্যও এটি একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।