ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo খাদ্য অনিয়মে চট্টগ্রামে বড় জরিমানা, ফ্লেভারস-মেরিডিয়ানসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার Logo বাকলিয়া এক্সেস রোডে অটোরিকশার দাপট, বাড়ছে আতঙ্ক Logo কৃতি শ্যাননের বিজ্ঞাপন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, উঠল যেসব প্রশ্ন Logo অনুরাগ কাশ্যপের ২০ বছরের ছোট প্রেমিকা, ভয় কাটিয়ে সুখের ১১ বছর Logo দীর্ঘ বিরতির পর নতুন চমক নিয়ে ফিরছেন তানিম রহমান অংশু! Logo সাবিলা নূরের স্টাইলিশ হ্যাট লুক, মিষ্টি হাসিতে বাড়ল মুগ্ধতা Logo দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারেই কি মস্তিষ্কে টিউমার হয়? Logo কিয়ারা আদভানির অভিনয় ও গ্ল্যামার, নজর কাড়ছে বারবার

মোজতবা খামেনি কোথায়? জানাজায় অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।ছবি: সংগৃহীত

বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং স্ত্রীর জানাজায় অনুপস্থিত ছিলেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতি দেশজুড়ে নতুন করে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে বিশাল এই আয়োজনেও মোজতবা খামেনিকে কোথাও দেখা যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর আসেননি।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে এখনো হত্যার হুমকি রয়েছে। তাই নিরাপত্তার কারণেই তাঁকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। তবে জানাজায় তাঁর তিন ভাই মোস্তফা, মাইসাম ও মাসুদসহ ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তেহরানে জানাজায় অংশ নেওয়া ২৬ বছর বয়সী মাসুমেহ আল-জাজিরাকে বলেন, মোজতবার অনুপস্থিতি শুধু একজন নেতার অনুপস্থিতি নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তাঁর ভাষায়, আগে ইরানের নেতাদের জনসমক্ষে দেখা যেত এবং সেটি জনগণের মধ্যে আস্থার প্রতীক ছিল। এখন নতুন সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

এদিকে সোমবার তেহরানে খামেনির মরদেহবাহী কফিন অতিক্রম করার সময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সরাসরি মোজতবা খামেনিকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিলে ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো ইরানি নেতাকেও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহেও কাৎজ প্রকাশ্যে বলেছিলেন, মোজতবা খামেনি ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন। তাঁর এমন মন্তব্য ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং দেশটির রাজনৈতিক মহলে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার এবং পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে জানাজায় অংশ নেওয়া আরেক বাসিন্দা ফায়েজেহ মনে করেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসাই স্বাভাবিক। তাঁর মতে, শত্রুপক্ষ যখন আগের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিও কোনো দয়া দেখায়নি, তখন বর্তমান নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

ফায়েজেহ আরও বলেন, মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতির অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছে এবং সময় উপযুক্ত হলে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মোজতবা খামেনি কোথায়? জানাজায় অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা

Update Time : ০১:১৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং স্ত্রীর জানাজায় অনুপস্থিত ছিলেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতি দেশজুড়ে নতুন করে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে বিশাল এই আয়োজনেও মোজতবা খামেনিকে কোথাও দেখা যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর আসেননি।

আরও পড়ুন  জাপানে তীব্র গরমে সিংহের মৃত্যু, চিড়িয়াখানায় বাড়ছে উদ্বেগ

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে এখনো হত্যার হুমকি রয়েছে। তাই নিরাপত্তার কারণেই তাঁকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। তবে জানাজায় তাঁর তিন ভাই মোস্তফা, মাইসাম ও মাসুদসহ ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তেহরানে জানাজায় অংশ নেওয়া ২৬ বছর বয়সী মাসুমেহ আল-জাজিরাকে বলেন, মোজতবার অনুপস্থিতি শুধু একজন নেতার অনুপস্থিতি নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তাঁর ভাষায়, আগে ইরানের নেতাদের জনসমক্ষে দেখা যেত এবং সেটি জনগণের মধ্যে আস্থার প্রতীক ছিল। এখন নতুন সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ও দাফন

এদিকে সোমবার তেহরানে খামেনির মরদেহবাহী কফিন অতিক্রম করার সময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সরাসরি মোজতবা খামেনিকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিলে ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো ইরানি নেতাকেও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহেও কাৎজ প্রকাশ্যে বলেছিলেন, মোজতবা খামেনি ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন। তাঁর এমন মন্তব্য ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং দেশটির রাজনৈতিক মহলে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার এবং পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  সৌদি ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এর বিশেষ সুযোগের মেয়াদ বাড়ল ২০২৬ পর্যন্ত

তবে জানাজায় অংশ নেওয়া আরেক বাসিন্দা ফায়েজেহ মনে করেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসাই স্বাভাবিক। তাঁর মতে, শত্রুপক্ষ যখন আগের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিও কোনো দয়া দেখায়নি, তখন বর্তমান নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

ফায়েজেহ আরও বলেন, মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতির অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছে এবং সময় উপযুক্ত হলে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যাবে।