ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ধর্ষণের অভিযোগের জেরে ময়মনসিংহে যুবককে হত্যা Logo ২১ বছর আগের সেই গোল, মিশরের বিপক্ষে মেসির মহাকাব্যের শুরু Logo নেইমারের অবসরে বাবার আবেগঘন চিঠি, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ Logo স্কালোনির বার্তা: ব্রাজিল-পর্তুগাল বিদায়ের পর নেই কোনো ফেভারিট Logo খামেনির জানাজায় খাবার বিতরণ করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo মোজতবা খামেনি কোথায়? জানাজায় অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা Logo বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচে নতুন বল, কী থাকছে ট্রিওন্ডা ফাইনালে Logo ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন জর্জ ক্লুনি Logo বিশ্বকাপ না জিতেও আক্ষেপ নেই রোনালদোর, ইউরোই তার বিশ্বকাপ Logo ২০৩০ বিশ্বকাপ: সরাসরি অংশ নেওয়া ৬ দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নেইমারের অবসরে বাবার আবেগঘন চিঠি, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ

নেইমারের অবসর

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিল তারকা নেইমার জুনিয়র। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের পর এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। ছেলের এমন ঘোষণার পর আবেগঘন এক খোলা চিঠি লিখে তাকে ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন নেইমারের বাবা নেইমার সিনিয়র।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেন নেইমারের বাবা। সেখানে তিনি ছেলের পুরো ফুটবল যাত্রার কথা স্মরণ করেন এবং জানান, একজন বাবা হিসেবে তাঁর একমাত্র অনুরোধ হলো ফুটবল থেকে পুরোপুরি দূরে সরে না যাওয়া।

চিঠির শুরুতেই তিনি ছেলের ক্যারিয়ারকে ‘দারুণ এক পথচলা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এই যাত্রা ছিল চ্যালেঞ্জিং, কখনো কখনো যন্ত্রণাদায়ক, তবে একই সঙ্গে আশীর্বাদে ভরপুর। ছোটবেলায় বল পায়ে দৌড়ানো সেই শিশুটির বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হওয়ার গল্পও তুলে ধরেন তিনি।

নেইমারের বাবা বলেন, খুব অল্প বয়সেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর ছেলের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে। সেটি শুধু প্রতিভা নয়, বরং একটি উদ্দেশ্য এবং ঈশ্বরপ্রদত্ত দায়িত্ব। সেই বিশ্বাস থেকেই পরিবারের সবাই নানা ত্যাগ স্বীকার করে সামনে এগিয়ে গেছেন।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে দীর্ঘ সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হয় সেলেসাওদের।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শিয়েলডেরুপের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। এরপর ব্রাজিল সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।

যোগ করা সময়ে কাসেমিরোকে ফাউল করার কারণে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে সেই গোল কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে, বিদায় এড়াতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন নেইমার। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এখন তাঁর আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।

নেইমারের ভাষায়, ‘আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। আমি এখানেই শুরু করেছিলাম, আর এখানেই শেষ করলাম।’ তাঁর এই বক্তব্য মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।

জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায় নিলেও ব্রাজিলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবেই নিজের নাম লিখিয়ে রাখলেন নেইমার। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।

ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৫৯টি গোল। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে গোল এবং অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অন্যতম বড় অর্জন ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ জয়। সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

এছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো ফুটবলে অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতানোর নেতৃত্বও দেন নেইমার। ঘরের মাঠে সেই অর্জন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।

চলতি বিশ্বকাপের আগে নেইমারের অংশগ্রহণ নিয়েও ছিল শঙ্কা। চোটের কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবুও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি অভিজ্ঞ এই তারকার ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

আনচেলত্তির বিশ্বাস ছিল, বড় মঞ্চে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ব্রাজিলকে অনেক দূর নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। কিন্তু দলগত ব্যর্থতা এবং প্রতিপক্ষের কার্যকর ফুটবলের সামনে সেই আশা পূরণ হয়নি।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায় আরও একটি হতাশাজনক পরিসংখ্যান সামনে নিয়ে এসেছে। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল ব্রাজিলের টানা সপ্তম পরাজয়।

এছাড়া ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুত বিদায় হিসেবে রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। ফুটবলপ্রেমী দেশটির জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।

এমন হতাশার মধ্যেও ছেলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন নেইমারের বাবা। তাঁর চিঠির বড় অংশজুড়ে ছিল বিশ্বাস, পরিবার এবং জীবনের কঠিন সময় অতিক্রম করার গল্প।

তিনি লেখেন, জীবনের সবচেয়ে সুখের এবং সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে তাঁরা একসঙ্গে থেকেছেন। একসঙ্গে কেঁদেছেন, প্রার্থনা করেছেন, উদযাপন করেছেন এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি বারবার ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নেইমারের সাফল্য শুধু প্রতিভা বা পরিশ্রমের ফল নয়, বরং ঈশ্বরের পরিকল্পনারই অংশ।

ছেলেকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ফুটবল খেলার আনন্দটাকে আবার খুঁজে নিতে হবে। মাঠের সেই পরিচিত হাসিটা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং কোনো চাপ ছাড়া খেলাটিকে উপভোগ করতে হবে।

নেইমারের বাবার মতে, সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা ব্যর্থতার বোঝা নিজের কাঁধে বহন করার প্রয়োজন নেই। জীবনের কিছু বিষয় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অনেক কিছুই ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো একটি স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেই সেটি শেষ হয়ে যায় না। একটি কঠিন মুহূর্ত পুরো জীবনের গল্প নির্ধারণ করে না এবং ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করতেই পারে।

চিঠির শেষদিকে ছেলেকে পরিবার, সন্তান এবং নিজের সুখকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে ফুটবল খেলা চালিয়ে গিয়ে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার আহ্বানও জানান।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবে বাবার বার্তা স্পষ্ট—তিনি চান তাঁর ছেলে আবারও আনন্দ নিয়ে মাঠে নামুক এবং ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে যাক।

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের যাত্রা শেষ হলেও তাঁর অর্জন, স্মৃতি এবং অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর একজন বাবার আবেগঘন এই চিঠি হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ষণের অভিযোগের জেরে ময়মনসিংহে যুবককে হত্যা

নেইমারের অবসরে বাবার আবেগঘন চিঠি, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ

Update Time : ০২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিল তারকা নেইমার জুনিয়র। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের পর এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। ছেলের এমন ঘোষণার পর আবেগঘন এক খোলা চিঠি লিখে তাকে ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন নেইমারের বাবা নেইমার সিনিয়র।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেন নেইমারের বাবা। সেখানে তিনি ছেলের পুরো ফুটবল যাত্রার কথা স্মরণ করেন এবং জানান, একজন বাবা হিসেবে তাঁর একমাত্র অনুরোধ হলো ফুটবল থেকে পুরোপুরি দূরে সরে না যাওয়া।

চিঠির শুরুতেই তিনি ছেলের ক্যারিয়ারকে ‘দারুণ এক পথচলা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এই যাত্রা ছিল চ্যালেঞ্জিং, কখনো কখনো যন্ত্রণাদায়ক, তবে একই সঙ্গে আশীর্বাদে ভরপুর। ছোটবেলায় বল পায়ে দৌড়ানো সেই শিশুটির বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হওয়ার গল্পও তুলে ধরেন তিনি।

নেইমারের বাবা বলেন, খুব অল্প বয়সেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর ছেলের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে। সেটি শুধু প্রতিভা নয়, বরং একটি উদ্দেশ্য এবং ঈশ্বরপ্রদত্ত দায়িত্ব। সেই বিশ্বাস থেকেই পরিবারের সবাই নানা ত্যাগ স্বীকার করে সামনে এগিয়ে গেছেন।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে দীর্ঘ সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হয় সেলেসাওদের।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শিয়েলডেরুপের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। এরপর ব্রাজিল সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।

আরও পড়ুন  ডট বলের নতুন মাইলফলকে মুস্তাফিজ | টি-টোয়েন্টিতে ৩০০০ ক্লাব

যোগ করা সময়ে কাসেমিরোকে ফাউল করার কারণে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে সেই গোল কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে, বিদায় এড়াতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন নেইমার। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এখন তাঁর আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।

নেইমারের ভাষায়, ‘আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। আমি এখানেই শুরু করেছিলাম, আর এখানেই শেষ করলাম।’ তাঁর এই বক্তব্য মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।

জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায় নিলেও ব্রাজিলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবেই নিজের নাম লিখিয়ে রাখলেন নেইমার। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।

ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৫৯টি গোল। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে গোল এবং অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অন্যতম বড় অর্জন ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ জয়। সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে জাপান, কী বললেন কোচ মরিয়াসু

এছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো ফুটবলে অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতানোর নেতৃত্বও দেন নেইমার। ঘরের মাঠে সেই অর্জন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।

চলতি বিশ্বকাপের আগে নেইমারের অংশগ্রহণ নিয়েও ছিল শঙ্কা। চোটের কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবুও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি অভিজ্ঞ এই তারকার ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

আনচেলত্তির বিশ্বাস ছিল, বড় মঞ্চে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ব্রাজিলকে অনেক দূর নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। কিন্তু দলগত ব্যর্থতা এবং প্রতিপক্ষের কার্যকর ফুটবলের সামনে সেই আশা পূরণ হয়নি।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায় আরও একটি হতাশাজনক পরিসংখ্যান সামনে নিয়ে এসেছে। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল ব্রাজিলের টানা সপ্তম পরাজয়।

এছাড়া ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুত বিদায় হিসেবে রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। ফুটবলপ্রেমী দেশটির জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।

এমন হতাশার মধ্যেও ছেলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন নেইমারের বাবা। তাঁর চিঠির বড় অংশজুড়ে ছিল বিশ্বাস, পরিবার এবং জীবনের কঠিন সময় অতিক্রম করার গল্প।

তিনি লেখেন, জীবনের সবচেয়ে সুখের এবং সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে তাঁরা একসঙ্গে থেকেছেন। একসঙ্গে কেঁদেছেন, প্রার্থনা করেছেন, উদযাপন করেছেন এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি বারবার ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নেইমারের সাফল্য শুধু প্রতিভা বা পরিশ্রমের ফল নয়, বরং ঈশ্বরের পরিকল্পনারই অংশ।

আরও পড়ুন  নোরার সঙ্গে বিশ্বকাপ মঞ্চ কাঁপালেন সঞ্জয়

ছেলেকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ফুটবল খেলার আনন্দটাকে আবার খুঁজে নিতে হবে। মাঠের সেই পরিচিত হাসিটা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং কোনো চাপ ছাড়া খেলাটিকে উপভোগ করতে হবে।

নেইমারের বাবার মতে, সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা ব্যর্থতার বোঝা নিজের কাঁধে বহন করার প্রয়োজন নেই। জীবনের কিছু বিষয় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অনেক কিছুই ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো একটি স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেই সেটি শেষ হয়ে যায় না। একটি কঠিন মুহূর্ত পুরো জীবনের গল্প নির্ধারণ করে না এবং ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করতেই পারে।

চিঠির শেষদিকে ছেলেকে পরিবার, সন্তান এবং নিজের সুখকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে ফুটবল খেলা চালিয়ে গিয়ে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার আহ্বানও জানান।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবে বাবার বার্তা স্পষ্ট—তিনি চান তাঁর ছেলে আবারও আনন্দ নিয়ে মাঠে নামুক এবং ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে যাক।

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের যাত্রা শেষ হলেও তাঁর অর্জন, স্মৃতি এবং অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর একজন বাবার আবেগঘন এই চিঠি হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।