এআই কর্মীদের আয় বৃদ্ধির প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও। বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের হাতে বিপুল অর্থ আসায় সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়ির দাম রেকর্ড গতিতে বাড়ছে। সম্প্রতি শহরের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি ব্যতিক্রমী প্রস্তাব—নগদের পাশাপাশি এআই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দিয়েও মূল্য পরিশোধের সুযোগ।
সান ফ্রান্সিসকোর অভিজাত ডুবোস ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় তিন শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৩০ লাখ ডলার। ফ্ল্যাটটি দেখতে আসা সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে ছিলেন ওপেনএআইয়ের এক তরুণ কর্মীও। তিনি জানান, সম্পত্তিটি কেনার বিষয়ে আগ্রহী এবং শেয়ার ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই ঘটনা শহরের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই সান ফ্রান্সিসকোতে নতুন অর্থনৈতিক জোয়ার শুরু হয়। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা উচ্চ বেতন, বড় অঙ্কের যোগদান বোনাস এবং শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর ফলে আবাসন বাজারে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে এবং সম্পত্তির দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা গেছে।
রেডফিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যারিল ফেয়ারওয়েদার বলেন, বর্তমানে বাজারে বিপুল অর্থের প্রবাহ রয়েছে এবং অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার জন্য প্রস্তুত। তাঁর মতে, এআই খাতের উত্থানই মূলত এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। অন্যদিকে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ম্যাথিউ গুলডেন বর্তমান পরিস্থিতিকে “অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতামূলক” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, গত বছরের তুলনায় সম্ভাব্য ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসিক সম্পত্তির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ১৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় মূল্য ছিল প্রায় চার লাখ ডলার। গত বছর ওপেনএআইয়ের শত শত কর্মী সম্মিলিতভাবে বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছেন। একইভাবে অ্যানথ্রপিকের কর্মীরাও বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন। ফলে বাজারে নতুন ধনী শ্রেণির উত্থান ঘটেছে, যারা সহজেই নগদ অর্থে বাড়ি কিনতে সক্ষম।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। অর্থনীতিবিদ এনরিকো মোরেত্তির মতে, এআই শিল্প এখনো বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের বাইরে থাকা অনেক পরিবার বাড়তি দামের কারণে শহর ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সর্বশেষ ডুবোস ট্রায়াঙ্গেলের আলোচিত অ্যাপার্টমেন্টটি ৩২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা চাওয়া দামের চেয়েও বেশি। ফলে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, এআই কর্মীদের আয় এখন সান ফ্রান্সিসকোর আবাসন বাজারের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
























